Main Menu

বাঞ্ছারামপুরে কালভার্ট যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল হাজারো মানুষের

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের পুরান কদমতুলি থেকে তাতুয়াকান্দি সড়কের কবরস্থানের কাছে ঢোলভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কালভার্টটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সাড়ে ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই কালভার্টটির মূল ঢালাই কয়েক বছর আগে ভেঙে যায়। এরপর লোহার পাটাতন বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলাচল চালু রাখা হয়।
তবে বর্তমানে ওই পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং একাংশ দেবে যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা একে ‘মরণ সেতু’ নামে অভিহিত করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক যানবাহন কালভার্টটি পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে অনেক চালক, যাত্রী ও পথচারী আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটির ওপর দিয়ে মানুষজন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। পাটাতনের গর্তগুলো এতটাই বড় হয়ে গেছে যে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সংকেত বা সাইনবোর্ডও নেই। ফলে বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে এ কালভার্ট পার হচ্ছে। বিপাকে পড়ছেন অটোবাইক, মোটরসাইকেল, টেম্পো, রিকশা ও ভ্যানচালকরাও।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৪ সালে কদমতুলি-তাতুয়াকান্দি সড়কে এই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিদিন সোনারামপুর, মরিচাকান্দি, দরিয়াদৌলত, পাহাড়িয়াকান্দি, নতুন কদমতুলি ও তাতুয়াকান্দিসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের শত শত মানুষ এই কালভার্ট ব্যবহার করে। পাটাতনে সৃষ্ট একাধিক গর্ত ও দেবে যাওয়ার কারণে প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক জীবন মিয়া বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে কালভার্টের ওপর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এখন এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।’ ভ্যানচালক মমিন উদ্দীন বলেন, ‘প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে এই বড় গর্তগুলো দেখছি। কয়েকদিন আগে আমার ভ্যানের চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীও আহত হন। রাতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানিও হতে পারে। তখন দায় নেবে কে?’স্কুল শিক্ষার্থী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কালভার্ট পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেকেই জানে না এখানে ঝুঁকি আছে, তারাই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার দরকার।’ সমাজ সংগঠক আবুল বাশার বাদশা বলেন, ‘এক হাতে প্রাণ, আরেক হাতে প্রয়োজন নিয়ে মানুষ নিত্যদিন এই মরণফাঁদ কালভার্ট দিয়ে চলাচল করছে।’
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘কালভার্টটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares