Main Menu

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালিমা লেপনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোমবাতি প্রজ্বালন

[Web-Dorado_Zoom]
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অন্যান্য লেখক ও চলচ্চিত্রকারের গ্রাফিতিতে কালিমা লেপনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোমবাতি প্রজ্বালন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালি সকাল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাতের প্রতিবাদ জানান অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালিমা লেপন শুধু দেয়ালচিত্র বিকৃতির ঘটনা নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর আঘাত। রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর একক সম্পদ নন, তিনি সমগ্র বাঙালির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তাঁরা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন মানবিক মর্যাদা, স্বাধীন চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম ও প্রতিকৃতিকে অবমাননার মাধ্যমে বাঙালির বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দুর্বল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। তাই জাতীয় সংগীতের রচয়িতার সৃষ্টিকর্মের অবমাননা দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতিও অসম্মান।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুন নূর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদের সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন, জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কান্তি দত্ত, রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি অধ্যাপক মানবর্ধন পাল, সোনালি সকালের সাধারণ সম্পাদক রুপম রূপ, তরী বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ, কবির কলমের সভাপতি হুমায়ুন কবির এবং খেলাঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোনালি সকালের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মুনতাসির।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শিল্প-সংস্কৃতির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares