বরিশল উপজেলা গঠনের প্রস্তাব, প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করার হুঁশিয়ারি, জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আলেম-ওলামা ও এলাকাবাসী। এ সময় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সদর উপজেলাকে ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়া হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাধিকা বাজারে উলামা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে সুলতানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-ওলামারা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের রাধিকা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে উলামা ঐক্য পরিষদ সদর দক্ষিণাঞ্চলের সভাপতি মাওলানা মুছা মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন ওমর ফারুক, পরিষদের সেক্রেটারি গাজী নিয়াজুল করিম, ওলামা দলের উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত, হাফেজ মাওলানা আবুল খায়ের, আব্দুল করিম, মাওলানা লুৎফর রহমান, মাওলানা মনির হোসেন, মাওলানা ইসাক আল হুসাইনি, মাওলানা বেলাল হাজারী মাওলানা মহসিনুল হাসান, মাওলানা হারুনুর রশিদ কাসেমীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের চিঠি প্রায় এক মাস গোপন রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারও দাবি করেন উলামা ঐক্য পরিষদের নেতারা।
তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সীমানা পরিবর্তন কিংবা নতুন উপজেলা গঠনের কোনো উদ্যোগ তাঁরা মেনে নেবেন না। সদর উপজেলার সঙ্গে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বরিশল নামে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়া হবে।
« শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা (Previous News)



















