যুবদল নেতা জুনাইদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। ওই যুবদল নেতার ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারের নিরাপত্তা ও বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেন সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. কামাল পারভেজ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামাল পারভেজ বলেন, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন পরিবারের অজান্তে পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচাড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিসা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের ২ জুন আইনানুগভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
কামাল পারভেজের অভিযোগ, এরপর থেকেই কিবরু মিয়া বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট পাকশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভুইশ্বর গ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে অরুয়াইল বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা নিসা আক্তারের জন্য এবং ২০ লাখ টাকা জুনাইদ মিয়ার জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কামাল পারভেজ আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দিলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি বাজারের ব্যবসায়ীদের জানালে জুনাইদ মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে গত ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর অরুয়াইল বাজারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।
কামাল পারভেজ জানান, বাড়িতে হামলার ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুনাইদ মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। জুনাইদ মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অরুয়াইল বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন এবং কামাল পারভেজও তাঁর পরিচিত ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁর দাবি, কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন কিবরু মিয়ার নাবালিকা মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
জুনাইদ মিয়ার ভাষ্য, মেয়েটির অবস্থান জানার পর কিবরু মিয়া কামাল পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট কিবরু মিয়া সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে (জুনাইদ) সাক্ষী করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল পারভেজ গত ১৮ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, ভাই ফারুক আহমেদ ও স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।
« কসবায় ১০ কেজি গাঁজা ও ১ হাজার ৪৪০ ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার (Previous News)
(Next News) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতার প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের মিছিল »



















