Main Menu

কসবায় ট্রেন থেকে পড়ে নিহত রিপনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নিহত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রিপন কুমার দাস (৪৩)-এর লাশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পারিবারিক শ্মশানে চিতা দাহের মাধ্যমে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের ছোট ভাই জয়বিন কুমারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত রিপন কুমার দাস ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার ২৯/২, গণকটুলী লেন, নিউ মার্কেটের বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত লক্ষ্মণ কুমার দাসের ছেলে। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গার্মেন্টস পণ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। ভ্রমণপ্রিয় ও মানবিক স্বভাবের রিপন কুমার সবসময় মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়াতেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। পরিবারে তিনি ছিলেন চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড়। এক ভাই আগেই মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী হিরা রানী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ঢাকার বাসা থেকে ব্যবসায়িক কাজে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বের হন রিপন কুমার। সর্বশেষ গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি জানান, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে ঢাকায় ফিরছেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানার অধীন কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল সেকশনের ১৮৪/৩-৪ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী হাঁকর ও গঙ্গানগর এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কসবা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের লিখিত মেমোর ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকাগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি ট্রেন থেকে পড়ে গেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার এসআই (নিরস্ত্র) আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় ডাটাবেজে অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশিত ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরাও রিপন কুমার দাসকে শনাক্ত করেন। এরপর আখাউড়া রেলওয়ে থানার মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিহতের দুই ভাই জয়বিন কুমার ও বিশাল কুমার, ভাগিনা অনুব কুমার দাস এবং মেয়ের জামাতা সানি লাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে মরদেহ গ্রহণ করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সহায়তায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিক শ্মশানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares