কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌলিতাসহ ১০ জনের লাশ হস্তান্তর
[Web-Dorado_Zoom]
কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণী মৌলিতা মেহজাবিন আলভিসহ ১০ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁদের লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুড়ে যাওয়া লাশের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা এবং স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরিচয় শনাক্তের পর মঙ্গলবার তাঁদের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি, তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), আরেক কাজিন ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।
নিহতদের মধ্যে লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আগুনে লাশগুলো পুড়ে যাওয়ায় প্রথমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর মঙ্গলবার নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
« জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, ৩০ এর জায়গায় মিলছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট (Previous News)



















