অনিয়মের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮ সার ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ, বহাল নাসিরনগরের এমপির ছেলে-স্বজনদের
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আটটি ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। তবে নাসিরনগরের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের নামে পাওয়া সার ডিলারশিপ বহাল থাকছে। তাদের ডিলারশিপের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলায় ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভায় ১০৬টি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, নীতিমালার শর্ত পূরণ না করেও ডিলারশিপের সুপারিশ এবং এ ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন কয়েকজন আবেদনকারী।
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় নাসিরনগর উপজেলায়। সেখানে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নের স্ত্রী ডিলারশিপ পেয়েছেন। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশিত হয়।
উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়ন থেকে সংসদ সদস্যের ছেলে আদনান সাদী মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্সের নামে, নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন থেকে তাঁর বোনজামাই আরক মিয়া মেসার্স আয়ান ট্রেডার্সের নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়ন থেকে তাঁর ভাগ্নের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা এসএস ট্রেডার্সের নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন।
আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে গত ১১ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মেসার্স বাংলা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রেডার্সের কামাল মিয়া। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম স্থানে থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে নোমান মিয়াকে। নোমান মিয়া দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সরাইল সদর ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক তালিকায় মেসার্স বীজ ঘর, সারা এন্টারপ্রাইজ ও সাইফুল এন্টারপ্রাইজের অবস্থান ছিল যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়। পরে সারা এন্টারপ্রাইজের আবেদন বাতিল হলে সাইফুল এন্টারপ্রাইজকে দ্বিতীয় এবং মেসার্স বীজ ঘরকে তৃতীয় স্থানে রেখে নতুন করে জাকারিয়া এন্টারপ্রাইজকে প্রথম স্থানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সরাইলের মেসার্স দুলাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দুলাল মিয়ার অভিযোগ, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির তালিকায় তাঁর নাম প্রথম স্থানে থাকলেও তিনি ডিলারশিপ পাননি। পরিবর্তে তাজনিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফয়সাল রেজা খালিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলায় ১০৬টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৮২৫টি। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি উপজেলা থেকে আসা তালিকা পর্যালোচনা করে ২৯২ জনের নাম সুপারিশ করে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক ড. মোস্তফা ইমরান জানান, পাওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে ছয়টি ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও
দুই থেকে তিনটি ডিলারশিপের বিষয়ে আসা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আটটি ডিলারশিপে নতুন নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হবে। সংসদ সদস্যের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের ডিলারশিপের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১ মামলার আসামি দুখু গ্রেফতার (Previous News)



















