হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বহুল আলোচিত হাসপাতালটি দু'দিন ধরে বন্ধ!!
নবীনগরে প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে এবার নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন!
[Web-Dorado_Zoom]
মিঠু সূত্রধর পলাশ, নবীনগর প্রতিনি ধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের থানা গেইট সংলগ্ন আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রবিবার গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন করে আবারও তিন সদস্যের একটি ‘তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সিভিল সার্জন নোমান মিয়ার নির্দেশে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ঘটনার পর গতকাল ওই হাসপাতালেই প্রাইভেট প্র্যাক্টিসরত নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনকে আহবায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির নাম মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে, এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরে প্রচন্ড সমালোচনার মুখে গঠিত ওই তদন্ত কমিটি অবশেষে বাতিল করে আজ সোমবার জেলা সদর হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে নতুন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দুপুরে জেলার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন,’গতকাল গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে আপত্তি উঠায় জেলা সদরের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনাকে ‘আহবায়ক’ করে তিন সদস্যদের নতুন তদন্ত কমিটি আজ গঠন করে দিয়েছি।’ এদিকে এ ঘটনার দু’দিন পরও মৃত প্রসূতির পক্ষ থেকে থানায় এ পর্যন্ত কোন মামলা হযনি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের প্রচন্ড হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া আহমেদ হাসপাতালটিতে আজ সোমবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে তিনতলা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে কোন রোগী বা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট তেমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) শনিবার রাত আনুমানিক ১-টার দিকে প্রসব ব্যাথা নিয়ে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্বাবধানে মধ্য রাতে ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার (সিজার) হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠে, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল চিকিৎসায় পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে প্রসূতি রাকিবা মারা যান।
এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বজনদের না জানিয়ে, ‘রোগীর অবস্থা ভালো নয়’ এমন কৌশল নিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃত রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা বিষযটি টের পেয়ে হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ভাংচুর শুরু করে।
এদিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি রাকিবা মারা গেছে! এমন খবর প্রসূতির গ্রামের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে, সেখান থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন গতকাল রবিবার সকালে এসে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ব্যাপক হামলা ও প্রচন্ড ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালের সকল ডাক্তার ও ষ্টাফরা পালিয়ে যান।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান, এই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ আগেও হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর বারবারই সমঝোতা হয়, কোন আইনী প্রতিকার হয়না।
এসময় একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘দেশে থানা পুলিশ ও আইন আদালত থাকার পর নবীনগর থানার এত কাছে অবস্থিত হাসপাতালটিতে প্রকাশ্যে এমন ভয়ংকর তান্ডব চালানোর সাহস পায় কি করে? হাসপাতালে আগত এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক। কিন্তু এসব না করে হাসপাতালে হামলা ও তান্ডব কেন? আমরা তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রসূতি হত্যার বিচারসহ হামলাকারীদেরও কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’
এ বিষয়ে হাসপাতালটির মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে আজ দুপুরে আহমেদ হাসপাতালের ক্যাশিয়ার শাহ আলমের আচমকা দেখা পাওযার পর, তিনি জানান,’মালিক ও প্রায় সকল ষ্টাফ ঘটনার পর আতংকে পালিয়ে গেছেন। ফলে নারকীয় হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া নবীনগরের প্রথম স্থাপিত এই প্রাইভেট হাসপাতালটি দু’দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ক্যাশিয়ার শাহ আলম জানান,’হামলায় হাসপাতালের কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’!
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ আজ দুপুরে বলেন,’ শনিবার প্রসূতির মৃত্যুর দুদিন পরও এ পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। তবে হাসপাতালটি বন্ধ থাকলেও, পরিস্থিতি শান্ত রযেছে। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে!’
থানার সামনেই একটি হাসপাতালে হামলাকারীরা এরকম ভয়ংকর হামলা করার সাহস পায় কি করে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,’ঘটনার পরপরই সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।’
« আখাউড়ায় সেতুর অভাবে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার করতে হয় লাশ (Previous News)
(Next News) কসবায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড »



















