৩৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাঞ্ছারামপুর তাঁতকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রায় ৩৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন সার্ভিসেস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার (এসএফসি) ও বেসিক সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কেন্দ্র দুটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং অবকাঠামোগত অবস্থা, সরকারি জমির বর্তমান পরিস্থিতি ও স্থানীয় তাঁতশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন হলে পুরোনো স্থাপনা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তাঁত বোর্ডের জমি বেদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় বাঞ্ছারামপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁতশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নানা সংকটে এ শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আধুনিকায়নের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয় তাঁতশিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন) কে এম আবুল কালাম আজাদ, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নে তিতাস নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত তাঁত বোর্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারটি ১৯৮৯ সালে ২৬২ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় তাঁতিদের জন্য রং, মাকু ও সুতা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে নির্মাণের পর থেকে কেন্দ্রটি
আর চালু হয়নি।
দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় কেন্দ্রটির ভবন ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ নষ্ট হওয়ার পথে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলোও ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে বহু কর্মকর্তা, সচিব ও মন্ত্রী কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে এবার তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানের সরেজমিন পরিদর্শন ও পুনরায় চালুর উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদের কোটি টাকার জায়গা উদ্ধারে অভিযান শুরু (Previous News)
(Next News) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর মেম্বার গ্রেপ্তার »



















