Main Menu

হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশ, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে’

[Web-Dorado_Zoom]
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং জেলার আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।
তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা তৈরি হওয়া সঠিক নয়।
নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রেও নিজের তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।
হাসনাত বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে তা কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত বলা তাঁর উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।
জুলাইয়ের আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন। জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, **“এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।”**
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যার যেটি পছন্দ হবে, সে তাতে অংশ নেবে; যার পছন্দ হবে না, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।
বর্তমান সরকার মানুষের সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না দাবি করে তিনি বলেন, এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জুলাই আন্দোলন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সেই আন্দোলন হয়েছিল। সেই আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares