Main Menu

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী প্রাইভেট চেম্বারে নিতে টানাটানি, দুই চিকিৎসকের দালাল ও সমর্থকদের সংঘর্ষ

[Web-Dorado_Zoom]

রুবেল আহমেদ : কসবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডক্টরস কোয়াটারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী টানাটানি নিয়ে দুই চিকিৎসকের কথিত প্রাইভেট সহযোগী দালালদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ( ১৮ নভেম্বর ) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপাউন্ডে এই ঘটনা ঘটে। এতে দুই দালাল পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক নিজস্ব ডক্টরস কোয়ার্টারে রোগী দেখেন। এসময় রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে তাদের প্রাইভেট চেম্বারের সহযোগীরা অধিকাংশ সময় রোগীদের যার যার ডাক্তারের কাছে নেয়ার জন্য টানাটানি করেন। মঙ্গলবার বিকেলে এক রোগী চিকিৎসা নিতে আসলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মেশকাতুজ্জামান ও ডাঃ জামাল হোসেনের কথিত প্রাইভেট সহযোগী রোগীকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে এবং বাগবিতন্ডায় জড়ায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাগবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে ওই কথিত প্রাইভেট সহযোগী তাদের নিজ নিজ লোকজনদের খবর দিলে তারা এসে সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনার এক পর্যায়ে ডাঃ মেশকাতুজামানের কথিত প্রাইভেট সহযোগীর সমর্থকরা ডাঃ জামালের কোয়ার্টারে আক্রমন করে। এসময় তটস্থ হয়ে পড়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন অন্যান্য চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী জানান, এই দ্ইু চিকিসকের দুই কথিত সহযোগী দালালের মধ্যে রোগী টানাটানি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছিলো। মঙ্গলবার বিকেলে ওই মতবিরোধের জের ধরে বাগবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে তাদের বহিরাগত লোকজন এনে সংঘর্ষে জড়ায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী আসলেই এই চক্রের লোকজন তাদের পেছনে লেগে যায় । রোগীরাও তখন বিব্রত হয়ে পড়ে। এদের কারনে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা নিতে পারেনা।
এ বিষয়ে জানতে ডাঃ জামাল হোসেনের মুঠোফোনে (০১৮৬১৬৮২১৫৬) নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অপর চিকিৎসক ডাঃ মেশকাতুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার চেম্বারের সিরিয়াল করা রোগী ডাঃ জামাল হোসেনের প্রাইভেট চেম্বারের সহযোগী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমার প্রাইভেট চেম্বারের সহযোগী বাধা দিলে তাকে মারধর করে। এ বিষয় জানতে তার প্রাইভেট চেম্বারের লোকজন গেলে তাদের ওপরও আক্রমন করা জামাল সাহেবের লোকজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মহিউদ্দিন মৃধা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের কোন সহকারী থাকেনা। দালালরা প্রাইভেট সহযোগী পরিচয়ে কাজ করে। হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারের লোকজন ডক্টরস কোয়াটারে এসে কথিত প্রাইভেট সহযোগী সাজে।
উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনা সময় বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। ডাঃ জামাল হোসেন এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নোমান মিয়া জানান, বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল কাদের জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংঘর্ষের খবরে পুলিশের মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছিলো। এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares