Main Menu

সরাইলে বিএনপির সাবেক নেতা মজিবুর রহমানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, ২০ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

[Web-Dorado_Zoom]
মোহাম্মদ মাসুদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপির সাবেক এক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত মজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে এবং তদন্তে কোনো গাফিলতি নেই।
আহত মজিবুর রহমান সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে মজিবুর রহমানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে লোহার শাবল দিয়ে নাভির নিচে ও পুরুষাঙ্গের ওপর আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে রাজাপুর গ্রামের রুমেজা খাতুনের রান্নাঘরে ফেলে রাখা হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মজিবুর রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় ৪ আগস্ট মজিবুর রহমানের মেয়ে তাকমিনা বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় রাজাপুর গ্রামের শাহেদুল ও মনির মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মজিবুর রহমানের ছেলে প্রবাসী শাহীন মিয়া বলেন, “বাবার অবস্থা শুনে আমি প্রবাস থেকে দেশে এসেছি। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। বাবার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয়।”
মজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই মুসলেম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার মূল আসামি মনির মিয়া বিদেশে পালিয়ে গেছে। তাকে বিমানবন্দরেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
রাজাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মিয়া বলেন, “মুজিবুর রহমানের মতো একজন মানুষকে যদি এভাবে হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে রাজাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এ ঘটনায় পুলিশের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত।”
মুজিবুর রহমানের ভাতিজা জহিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার প্রায় ২০ দিন হয়ে গেছে। এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কী করছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
রাজাপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মাহবুব মিয়া এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান বলেন, “মুজিবুর রহমানের ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মামলার তদন্ত চলছে। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।”





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares