ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারিবারিক কলহ ও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গোপনাঙ্গ ও দুই পায়ে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত স্বামীর নাম রহমত আলী (২৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর গ্রামের কুরবান আলী বাড়ির বসু মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে সাড়ে তিন লাখ টাকা কাবিনে রহমত আলীর সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামীর শোবার কক্ষে রহমত আলী তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে জানান তিনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রহমত আলী তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসিড নিক্ষেপের পর ওই গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন রাত ১১টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
আহত গৃহবধূর বাবা অভিযোগ করে বলেন, শুধু গোপনাঙ্গেই নয়, তার মেয়ের দুই পায়েও এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। টাকার জন্য প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার করা হতো। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, শুনেছি, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এক গৃহবধূ। হাসপাতাল থেকে তার চিকিৎসা চলছে। তিনি সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্টদের তত্ত্বাবধানে আছেন। বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে জানানো হবে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল সূত্রে একজন গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এখনো ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















