ফিঙ্গারপ্রিন্টে মেলেনি পরিচয়, ফেসবুক পোস্টে শনাক্ত শারমিন, লাশ হস্তান্তরের পর দাফন সম্পন্ন
[Web-Dorado_Zoom]
নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম মোছা. শারমিন আক্তার (৩৫)। পরিচয় শনাক্তের পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মোঃ আজহার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে আখাউড়া থানার নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে শারমিন আক্তারের বড় ভাই আলফাজ ভূঁইয়ার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার চাচাতো ভাই বাবু ভূঁইয়া, মো. সোহাগ ভূঁইয়া ও দুলাভাই রাজু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
নিহত শারমিন আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের এরশাদ আলী ভূঁইয়া ও মোছা. সামসুন্নাহারের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যেতেন এবং পরে আবার বাড়িতে ফিরে আসতেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান শারমিন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও সন্ধান নেন। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সড়কে দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এক অজ্ঞাত নারী। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোগড়া বাজার উত্তর সিএনজি স্টেশনে নিয়ে যান। পরে একটি অটোরিকশাযোগে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহত নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অজ্ঞাত নারীর মৃত্যুর খবর ও ছবি দেখে শারমিনের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে তারা আখাউড়া থানা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাচাই-বাছাই শেষে অজ্ঞাত ওই নারীই নিখোঁজ শারমিন আক্তার বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বুধবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের কাছে শারমিনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে চান্দপুর মধ্যপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, ‘অজ্ঞাত হিসেবে সাত দিন মরদেহটি হিমাগারে ছিল। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা তাকে শান্তি দান করুন।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।’
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বৃক্ষরোপণ (Previous News)



















