প্রয়াস মাদক নিরাময়কেন্দ্রে রোগীর মৃত্যু: নির্বাহী পরিচালকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মো. ফোরকান নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নিহত ফোরকানের বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার পর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী ঘটনায় আগে কোনো অপমৃত্যু মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না, তা যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. ইকরামুল হক ওরফে রুবেলকে (৪৫)। অন্য আসামিরা হলেন কেন্দ্রটির পরিচালক নরসিংদীর প্রমোদ কুমার বর্মন (৪৬), শহরের কান্দিপাড়ার রিয়াদ আহমদ ওরফে রকসি (২৫), সাথি (৩০), আরিফ (৩২), সাকিব (২৫) ও শাহরিয়ার (৩৩)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত ফোরকান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাতারপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে নির্যাতনের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর গত ১২ আগস্ট ফোরকানকে তিন মাসের জন্য ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এ জন্য নির্ধারিত ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ভর্তির সময় কেন্দ্রটির মালিক ইকরামুল হক ও পরিচালক প্রমোদ কুমার বর্মনকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৫০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভর্তির পরদিন ফোরকান বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর বাবাকে জানান, নিরাময়কেন্দ্রের লোকজন তাঁকে মারধর করছেন। বিষয়টি যাচাই করতে গত ১৪ আগস্ট ফলমূল নিয়ে কেন্দ্রে যান তাঁর ভাগিনা মো. আশ্রাফ। এ সময় ফোরকান অফিসকক্ষে দৌড়ে এসে তাঁকে মারধরের কথা জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ইকরামুল হকের নির্দেশে অন্য আসামিরা ফোরকানকে ভেতরে নিয়ে মারধর করেন। এ সময় আশ্রাফ নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে ইকরামুল হক তাকে বলেন, শারীরিক নির্যাতন না করলে মাদকাসক্তের নেশা দূর হবে না।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে ফোরকানকে দফায় দফায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফোরকানের মৃত্যুর পর কেন্দ্রটিতে থাকা অন্যান্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগেও অভিযোগ
এর আগে গত ১৯ আগস্ট স্থানীয় লোকজন ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময়কেন্দ্রে ভাঙচুর চালানোর পর সেখানে থাকা প্রায় ৪০ জন রোগী পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল।
এদিকে ২০১৪ সালের ৯ আগস্ট শহরের কান্দিপাড়ার আতিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল (৩০) নামে এক যুবককে হত্যার পর তাঁর মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় রেখে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল ওই নিরাময়কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
« রাতের আঁধারে কলাবাগানের শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ (Previous News)



















