Main Menu

নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে সেলসম্যানের মরদেহ উদ্ধার

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে শ্যামল চন্দ্র দাস (৫২) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। নিখোঁজের দুই দিন পর রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সলিমগঞ্জ নৌ-পথের ধরাভাঙা এলাকায় নদীর তীর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শ্যামল চন্দ্র দাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির রায়পুরার এক ডিস্ট্রিবিউটরের অধীনে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পণ্য সরবরাহের জন্য তিনি নিয়মিত নৌপথে আলোকবালী, বাখরনগর ও মুরাদনগর এলাকার বাজারে যাতায়াত করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নৌকার মাঝি রেজন মিয়ার ছেলে জহিরুলকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরা ঘাট থেকে আলোকবালীর উদ্দেশে রওনা দেন শ্যামল। পণ্য সরবরাহ শেষে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে ফোন করে কাজ শেষ হওয়ার কথা জানান। এরপর একই নৌকায় ফেরার কথা থাকলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও শ্যামলের খোঁজ না পেয়ে ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা নৌকার মাঝি রেজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁর ছেলে জহিরুলের কাছে জানতে চান। জহিরুল তাঁদের জানান, দুপুর ১টার দিকে শ্যামলকে খোদাদিল্লা ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন। তবে শ্যামলের নিয়মিত ফেরার কথা ছিল মনিপুরা ঘাটে।
নিহতের ছোট ভাই বাদল দাসের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিচিতির সুযোগ নিয়ে জহিরুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর ভাইকে ডাকাত দলের হাতে তুলে দিয়েছেন। ডাকাত দলের সদস্যরা পণ্য বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শ্যামলকে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল শ্যামলকে নদীর মাঝপথে কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় নৌকার মাঝির ছেলে জহিরুলকে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ আটক করেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২ নভেম্বর) মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর নূর হায়দার তালুকদার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares