Main Menu

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে নবীনগরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চরম জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অফিসের কার্যক্রম অনেকটাই একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও রয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসে একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পাশাপাশি ১১ জন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়কের সব পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
অফিসের হিসাব সহকারী মো. আবু হানিফ জানান, ২০১২ সালে তিনি যোগদানের সময় চারজন কর্মচারী ছিলেন। ধীরে ধীরে সবাই অবসরে বা বদলি হয়ে যাওয়ার পর গত দুই বছর ধরে তিনি একাই প্রশাসনিক ও আর্থিক অধিকাংশ কাজ সামলাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “উপজেলায় ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষক এবং শতাধিক দপ্তরির বেতন-ভাতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক সব কাজ আমাকে একাই করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও লিভারের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছি।”
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, জনবল সংকটের কারণে শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো পাওয়া যায় না। বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক অনুমোদন, বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তিসহ নিয়মিত কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।
আতিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক বলেন, “২১টি ইউনিয়নের ২১৯টি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে তদারকি করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজের জন্য শিক্ষকরা প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
গোসাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা জাহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংকট রয়েছে। ফলে শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
শ্যামগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডালিয়া সুলতানা বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬৯ জন। অর্থাৎ প্রায় ১৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী শিক্ষকেরও প্রায় ১৫০টি পদ খালি রয়েছে।
আশ্রাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুদা বেগম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মানিক ভূঁইয়া একাই পুরো উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares