তিতাস নদী ভরাটের অভিযোগে হাসপাতাল মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা
[Web-Dorado_Zoom]
মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভায় তিতাস নদীর একটি অংশ বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভরাট করা অংশ থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে নবীনগর পৌরসভার লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে তিতাস নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে তিতাস নদীর প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। গত শনিবার পানির নিচ থেকে বালু জেগে ওঠার পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নদী ভরাটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়।
তবে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, ভরাট করা জায়গাটি তার ক্রয়কৃত বৈধ সম্পত্তি। তিনি বলেন, বিএস রেকর্ড অনুযায়ী ওই জমির মালিক তিনি। নদীর পাড়ে তার ৩৫ শতাংশ জায়গা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ শতাংশ জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। জায়গাটি নাল জমি এবং তার হাসপাতালের সংলগ্ন হওয়ায় হাসপাতাল সম্প্রসারণের জন্য তা ভরাট করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী ভরাট করা জায়গাটি তিতাস নদীর অংশ। নদী দখল বা ভরাট করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “নদী দখল কিংবা ভরাট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। সরকারের রেকর্ড অনুযায়ী উক্ত জায়গাটি নদীর অংশ। এ ঘটনায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভরাট করা অংশের বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের এ অভিযানের পর ভরাট করা নদীর অংশ থেকে বালু অপসারণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।



















