কসবায় এক শিক্ষকের দীর্ঘ ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি, শিক্ষার্থীরা দিলেন আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা
[Web-Dorado_Zoom]
রুবেল আহমেদ : শিক্ষকতা শুধু একটি মহান পেশা নয়, মানুষ গড়ার এক মহৎ দায়িত্ব। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশী সময় ধরে নিষ্ঠা, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আলহাজ সৈয়দ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম ভূইয়া। দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসানে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
সোমবার বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বিদায়ী শিক্ষকের সম্মানে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় । দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে তাঁর সহকর্মীরা যেমন ছিলেন বিষন্ন তেমনী অনেকের চোখেই দেখা যায় অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা।
৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তাজুল ইসলাম ভূইয়া শুধু ইংরেজি পড়াননি, শিক্ষার্থীদের শিখিয়েছেন শৃঙ্খলা, সততা, মানবিকতা ও জীবনের মূল্যবোধ। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাই প্রিয় শিক্ষকের বিদায় ক্ষণটি ছিল তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দ-বেদনার এক মিশ্র অনুভূতির সময়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব শরীফুল হক স্বপন। প্রধান আলোচক ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর খান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শিউলি আক্তার, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক আরিফ মাহমুদ, ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। তিনি তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও ভালোবাসার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকেন। ৪২ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে হাজ্জুল ইসলাম ভূইয়া যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ স্মৃতিচারণ করেন শ্রেণিকক্ষের, কেউবা স্মরণ করেন শিক্ষকের শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর মমতার কথা। তাঁদের কণ্ঠে ছিল একই কথা স্যার অবসরে গেলেও আমাদের হৃদয় থেকে কখনো অবসর নেবেন না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক সাবেক শিক্ষার্থী হারুনুর রশিদ, আলী আক্কাস চৌধুরী, নুরে আলম চৌধুরী ও লিংকনসহ অন্যান্য সাবেক ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে যিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর বিদায় যেন কেবল একটি চাকরি জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি। একজন শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবেই এ আয়োজন। সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার সামগ্রীসহ সকলে মিলে প্রায় নগদ ৬ লক্ষ টাকা উপহার দেন।
বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষক তাজুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি অবসরে যাচ্ছি, কিন্তু আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কখনো দূরে যেতে চাই না। তোমরা ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে এটাই আমার প্রত্যাশা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় প্রিয় শিক্ষক তাজুল ইসলাম ভূইয়াকে বিদায়ী সম্মাননা জানানো হয়। আবেগঘন এই আয়োজনে স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বারবার উচ্চারিত হয় প্রিয় শিক্ষক তাজুল ইসলাম ভূইয়ার নাম।
« সরাইলে পানিশ্বর ইউনিয়নে মেঘনার ভাঙনে আতঙ্কে চার গ্রামের মানুষ (Previous News)



















