Main Menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা, সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি দখলের অপচেষ্টা, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং সংখ্যালঘু একটি পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শীতল চৌধুরী।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, সুলতানপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ধীরেন্দ্র চৌধুরীর ছেলে শীতল চৌধুরী ও তার পরিবার বড় সুলতানপুর মৌজার ১৮৯২ নম্বর খতিয়ানের ৪৬৪০ দাগে ১৭ শতাংশ পৈতৃক জমির মালিক। ওই জমিতে বর্তমানে তাদের একটি টিনশেড মার্কেট রয়েছে।
শীতল চৌধুরীর অভিযোগ, তার মার্কেট ও মূল সড়কের মাঝখানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কিছু খালি জমি রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই সরকারি জমি নিজেদের দাবি করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ছয় লেন মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের সময় অভিযুক্তদের কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে পরে তারা আবারও সরকারি জমি এবং তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সীমানা ঘেঁষে নতুন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এর ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের পর গত ১৩ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ২২ মে সেন্দ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বড় সুলতানপুর মৌজার ৯ নম্বর খতিয়ানের ৪৬৩৫ দাগের ০.৬০ একর জমি ‘নয়নজুলী’ শ্রেণিভুক্ত এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্ত। তদন্তকালে দেখা যায়, ওই সরকারি জমির একটি অংশে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতল চৌধুরী তার নিজস্ব ৪৬৪০ দাগের জমিতে ব্যবসা পরিচালনা করলেও পাশের সরকারি জমিতে চার ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া ও আল আমিন, মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে রইছ মিয়া এবং মৃত শেখ সহিদ মিয়ার ছেলে শেখ সুলতান।
সরেজমিন তদন্তের সময় অভিযুক্তরা জমিটি পৈতৃক বা ক্রয়সূত্রে ভোগদখলে থাকার দাবি করলেও সরকারি রেকর্ডে জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেন্দ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেমের দাখিল করা প্রতিবেদনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তদের একজন ও সুলতানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রিপন মিয়া বলেন, “সরকারি জায়গায় আমরা স্থাপনা নির্মাণ করেছি। সরকার যখন চাইবে তখন আমরা জায়গা ছেড়ে দেব।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি জমি উদ্ধার এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares