ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একদিনে ৫৬ কর্মচারীর বদলি
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৫৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন দপ্তরি, ২৬ জন অফিস সহায়ক ও ২৪ জন প্রসেস সার্ভার। সোমবার (২ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা থেকে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। তাঁদের আগামী ৮ নভেম্বর পূর্বাহ্ণে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ একই কর্মস্থলে ৮ থেকে ৯ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। এমনকি কারও কারও একই কর্মস্থলে ১৫ থেকে ১৬ বছর থাকার রেকর্ড রয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত এসব কর্মচারীকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একসঙ্গে এত সংখ্যক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বদলির আদেশ এবারই প্রথম। নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. রাশেদুল হক সজীব বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে এখানে আছি। এর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বদলির আদেশ। প্রয়োজন অনুসারেই এটি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘এদের অনেকে এখানে পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে আছেন। বদলানো দরকার।’
**দপ্তরি পদে ৬ জনের বদলি**
দপ্তরি পদে বদলি হওয়া ছয়জনের মধ্যে মো. আমীর হোসেনকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে নবীনগরে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিনি কসবা ইউএনওর কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।
সদর উপজেলার মোসাম্মৎ বকুল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় সংযুক্ত ছিলেন। নতুন আদেশে তাঁকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এর গোপনীয় শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
আখাউড়া ইউএনওর কার্যালয়ের জারু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ইউএনওর কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁকে বিজয়নগরে বদলি করে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নবীনগর ইউএনওর কার্যালয়ের হেলিম মৃধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় সংযুক্ত ছিলেন। তাঁকে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে বদলি করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিজয়নগর ইউএনওর কার্যালয়ের রুবেল আহমেদ নবীনগর ইউএনওর কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁকে আখাউড়া ইউএনওর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ের সুশান্ত রায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখায় বদলি করে সার্কিট হাউসেই সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
**অফিস সহায়ক পদে ২৬ জনের বদলি**
অফিস সহায়ক পদে ২৬ জনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. ইয়াছিন মিয়াকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখা থেকে সরাইল ইউএনওর কার্যালয়ে, মো. আবুল হোসেনকে থানা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখায়, মো. ফাইজুল ইসলামকে নাসিরনগর ইউএনওর কার্যালয় থেকে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে এবং সুলতানা আক্তারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য ও অভিযোগ শাখা থেকে শিক্ষা ও কল্যাণ শাখায় বদলি করা হয়েছে।
সোহেল আহমেদকে নেজারত শাখা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখায়, কসবা ইউএনওর কার্যালয়ের মোছাম্মৎ ছাবেরা আক্তার চৌধুরীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য ও অভিযোগ শাখায়, লোকমান হোসেনকে সদর ইউএনওর কার্যালয় থেকে বিজয়নগরে এবং মোসাম্মৎ নাদিরা বেগমকে নেজারত শাখা থেকে গোপনীয় শাখায় বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাহমুদা আক্তারকে শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে জেএম শাখায়, ময়না বেগমকে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায়, মো. রফিকুল ইসলামকে জেএম শাখা থেকে নবীনগর ইউএনওর কার্যালয়ে, মো. মতিউর রহমানকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখায় এবং চন্দন সরকারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখা থেকে কসবা ইউএনওর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার আমিনুল ইসলাম রিপনকে সদর ইউএনওর কার্যালয়ে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর গোপনীয় শাখার বুশরা আক্তারকে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখার সেন্টু লাল দাসকে সাধারণ শাখায় বদলি করে নেজারত শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
শাহিনুর রহমানকে সাধারণ শাখা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখায়, রিংকু রানী মল্লিককে সরাইল ইউএনওর কার্যালয় থেকে নাসিরনগর ইউএনওর কার্যালয়ে, পুলক চন্দ্র রায়কে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে নেজারত শাখায় এবং তানজিনা আক্তারকে সাধারণ শাখা থেকে সংযুক্তিতে সংস্থাপন শাখায় বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলামকে নবীনগর ইউএনওর কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এর গোপনীয় শাখায়, খায়েস মিয়াকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখা থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের গোপনীয় শাখায় এবং কামরুন নাহারকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এর গোপনীয় শাখা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর গোপনীয় শাখায় বদলি করা হয়েছে।
ইকরাম হোসেনকে নেজারত শাখা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর গোপনীয় শাখায় সংযুক্তি, মো. জামাল মিয়াকে স্থানীয় সরকার শাখা থেকে নেজারত শাখায় বদলি করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সংযুক্তি এবং বিজয়নগর ইউএনওর কার্যালয়ের মো. শাকিল মিয়াকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় বদলি করা হয়েছে।
**প্রসেস সার্ভার পদে ২৪ জনের বদলি**
প্রসেস সার্ভার পদে ২৪ জনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সৈয়দ ইলিয়াছ করিমকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাঞ্ছারামপুরে, মো. ইসমাইল মিয়াকে সদর ইউএনওর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় সংযুক্তি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সংযুক্ত থাকা মো. নজরুল ইসলামকে নেজারত শাখায় এবং মো. আমিনুল ইসলামকে সরাইল ইউএনওর কার্যালয় থেকে নাসিরনগরে বদলি করা হয়েছে।
সাল্লাদ মিয়াকে নেজারত শাখা থেকে আখাউড়া ইউএনওর কার্যালয়ে, ইউনুছ মিয়াকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে থানা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অন্তর্ভুক্ত নেজারত শাখায়, নোয়াব মিয়াকে নেজারত শাখায় বদলি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
মোজাম্মেল মোতাইদকে সরাইল ইউএনওর কার্যালয় থেকে নেজারত শাখায় বদলি করে আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রফিকুল ইসলামকে নেজারত শাখা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হেল্পডেস্ক শাখায় সংযুক্তি, আখাউড়া ইউএনওর কার্যালয়ের মো. মেহেদী হাসানকে কসবা ইউএনওর কার্যালয়ে এবং মো. মানিক মিয়াকে নেজারত শাখা থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া মো. কামাল উদ্দিনকে নবীনগর ইউএনওর কার্যালয় থেকে সরাইল ইউএনওর কার্যালয়ে, শ্রীকান্ত কুমার দাসকে কসবা থেকে আশুগঞ্জে, মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন সুজনকে নেজারত শাখা থেকে বাঞ্ছারামপুর ইউএনওর কার্যালয়ে এবং কামাল মিয়াকে নেজারত শাখা থেকে নাসিরনগর হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
জালাল উদ্দিনকে নেজারত শাখা থেকে সদর ইউএনওর কার্যালয়ে, আখাউড়া ইউএনওর কার্যালয়ের রতন মিয়াকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় বদলি করে সাধারণ শাখায় সংযুক্তি, বোরহান উদ্দিনকে সদর ইউএনওর কার্যালয় থেকে বিজয়নগর ইউএনওর কার্যালয়ে এবং আশুগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ের মোতাহার হোসেনকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় বদলি করা হয়েছে।
কসবা ইউএনওর কার্যালয়ের মো. জামাল হোসেনকে নাসিরনগর ইউএনওর কার্যালয়ে, বাঞ্ছারামপুর ইউএনওর কার্যালয়ের হাবিবুর রহমান চৌধুরীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায়, আলী আক্কাছকে নেজারত শাখা থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে, বাঞ্ছারামপুরের আবু কাইয়ুমকে নবীনগর ইউএনওর কার্যালয়ে এবং ইসরাইল হাসানকে নাসিরনগর ইউএনওর কার্যালয় থেকে কসবা ইউএনওর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
বদলির এই আদেশের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের কর্মস্থল ও দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে।
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Previous News)



















