Main Menu

নাসিরনগরে এমপির তিন স্বজনের সারের ডিলারশিপ, উঠেছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সারের ডিলার নিয়োগের তালিকায় বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগনের স্ত্রীর নাম আসা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিলারশিপপ্রত্যাশীরা।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সারের ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে এমপি এম এ হান্নানের ছেলে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’ নামে, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে তাঁর ভগ্নিপতি আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’ নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে তাঁর ভাগনের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’ নামে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন।
এমপির স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভায় ১০৬টি সারের ডিলারশিপের বিপরীতে ৮২৫ জন আবেদন করেন। সেখান থেকে ২৯২ জনের আবেদন সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশ করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি।
এর আগে সেপ্টেম্বরে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনগুলো উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের পর সুপারিশের জন্য পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য যেসব নাম পাঠানো হয়েছে, সেগুলোই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকায় দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে বলে জানান তিনি। অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন। তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তাঁরা চারটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তালিকায় একটি নাম ভুল হওয়ার বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অসন্তুষ্টির বিষয় থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্যের স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা কমিটি যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নামই পাঠিয়েছে। স্বজনদের নাম তালিকায় থাকলেও এ বিষয়ে
আগে থেকে জেনেশুনে কিছু করা হয়নি বলে তিনি জানান।
তবে ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares