নবীনগর মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ
[Web-Dorado_Zoom]
মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিতাস-বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানঘাটে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশান এলাকায় কিছু যুবকের আনাগোনা থাকে। সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে। শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাদের বলা হয়, ‘এখানে পূজা দিতে পারবে না, চলে যাও, না হলে অবস্থা খারাপ হবে।’ পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তারা শ্মশান থেকে চলে যান।
ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানালে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে
অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয়ে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা বলেন, মহাশ্মশানটি তাদের সম্প্রদায়ের মানুষের শেষকৃত্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে গিয়ে যদি ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপদে পূজা ও ধর্মীয় আচার পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে বাড়িতে গিয়ে হামলা বা মারধরের আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও জানান তারা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা তার ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম জানান, ফেসবুকে বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে যাচাই না করে ফেসবুকে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা বলেন, শ্মশানে নিয়মিত মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হয়রানি ও ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
« কৃষককে যত সুবিধা দেওয়া যাবে, ততই আমাদের মঙ্গল : মুশফিকুর রহমান (Previous News)



















