Main Menu

কৃষি জমি ও জলাশয় ভরাট করে উপশহর না করার দাবিতে মানববন্ধন

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহেরের পূর্বাঞ্চলের সদর ও বিজয়নগর উপজেলাধীন তিতাস ও লইসকানদী সংলগ্ন দত্তখোলা হাওরসহ একাধিক বিল এবং সংলগ্ন জলাশয় এলাকার কৃষিজমি। বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ি এবং নিম্নভূমি ভরাট করে ১ হাজার ২০০ একর ভূমিতে প্রস্তাবিত উপশহর নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে তিতাস পূর্বাঞ্চল বসতভিটা, কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
দুপুরে প্রায় পাঁচ শতাধিক ভূমি মালিক নারী-পুরুষ কাউতলী মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহর বাইপাস সড়কের পাশে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধন চলাকালে তিতাস পূর্বাঞ্চল বসতভিটা, কৃষি জমি ও জলাশয় রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হোসেন আহমেদ খান (বাবুর মাস্টার) এর সভাপতিত্বে সরকারকে এই আত্মঘাতী উপ শহর প্রকল্প থেকে সরে আসার দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাসানী চর্চা কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক, জেলা উদীচীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন, কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১২ শ একর কৃষি জমি ও জলাশয় ভরাট করে যদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে শত শত প্রান্তিক কৃষক তাদের জমি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ধাবিত হবে। এলাকার খাদ্য নিরাপত্তার উপর চরম প্রভাব পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা আইনসহ দেশের প্রচলিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আইনের চরম লঙ্ঘন ঘটবে। তাই সরকার যদি আত্মঘাতী এ প্রকল্প থেকে সরে না আসে তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে তারা বাধ্য হবেন।
মানববন্ধন থেকে প্রস্তাবিত উপশহর প্রকল্পের স্থান পুনর্বিবেচনা, বিল-জলাশয় ও কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিবেশ সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না । কিংবা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে জেলা প্রশাসনকে কোনো দিক নির্দেশনাও দেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর থেকে সচিবের একান্ত সচিব বশির আহমেদ (সিনিয়র সহকারি সচিব) স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম পরদিন ১৩ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও বিজয়নগর উপজেলাধীন ‘সম্ভাব্য আবাসিক প্লট স্থাপন উন্নয়ন প্রকল্প’র স্থান পরিদর্শনে আসছেন। যার অনুলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন (১৩ জুলাই) গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন নি। তবে, পরদিন ১৪ জুলাই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী এ.কিউ.এম শাহজালাল মজুমদারের নেতৃত্বে একটি টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares