Main Menu

স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগে অভিমান, গৃহবধূর আত্মহত্যা

[Web-Dorado_Zoom]

স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগে অভিমান, গৃহবধূর আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অভিমান করে কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করে নিপা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্বামীর বাড়িতে কীটনাশক সেবনের পর তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিপা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সুহিলপুর গ্রামের নোয়াজের বাড়ির জিল্লু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন ওরফে লুকমান বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের গোয়ালখলা গ্রামের মৃত আব্দু মিয়ার ছেলে।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নিপা আক্তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার কথা-কাটাকাটি ও অভিমান হয়। একপর্যায়ে তিনি কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই সাদ্দাম মিয়ার অভিযোগ, তার বোনের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত এবং ওই নারীকে বিয়ে করতে চান। এ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বোনকে ওই সম্পর্ক মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় তার বোনকে স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মারধর ও নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের ভাই আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতনের পর কীটনাশক সেবনে বাধ্য করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য বাড়িতে নেই। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক গৃহবধূ কীটনাশক সেবনে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares