ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রবিবার থেকে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু
[Web-Dorado_Zoom]
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে স্থায়ী অবকাঠামো ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে—এমন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সরাসরি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে জমা দিতে পারবেন। চাইলে ডাকযোগেও আবেদন পাঠানো যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টি উৎপাদন ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, স্থায়ী পাইকারি মুদি দোকান, খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, আইসক্রিম কারখানা, খাদ্য কোল্ড স্টোরেজ, বেসরকারি খাদ্য গুদাম, সুপারশপ, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং গুঁড়, চকোলেট, মনাক্কা ও আচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটপাতের ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসায়ী, অস্থায়ী ও ভাসমান ব্যবসায়ী এবং পিঠা-পুলি, ফুচকা ও চটপটি বিক্রেতাদের আবেদন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে তাঁদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ৫.১ নম্বর এবং লাইসেন্সের জন্য ৬.১ নম্বর আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিদ্যমান অন্যান্য
লাইসেন্সের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে। আবেদন হাতে লিখে অথবা কম্পিউটারে পূরণ করে স্বাক্ষরসহ জমা দেওয়া যাবে।
আবেদন পাঠানোর ঠিকানা: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ২য় তলা, হামীম ভবন, দাতিয়ারা, ওয়াপদা রোড, সদর-৩৪০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। প্রয়োজনে ই-মেইলে যোগাযোগ করা যাবে fso.brahmanbaria@bfsa.gov.bd ঠিকানায়। ওয়েবসাইট: www.bfsa.brahmanbaria.gov.bd।
নিবন্ধন গ্রহণের জন্য কোনো ফি লাগবে না। তবে নিবন্ধন নবায়ন, ডুপ্লিকেট বা পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। লাইসেন্স আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর।
আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নিজেরাই আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করে দেওয়া, দ্রুত নিবন্ধন বা লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে তাঁদের সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
কোনো ধরনের প্রতারণা বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটলে নিরাপদ খাদ্য অফিসারকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অফলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলেও প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস প্রস্তুত হলে পরবর্তী সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু করা হবে।



















