কসবায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৫
[Web-Dorado_Zoom]
রুবেল আহমেদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, মো. হোসেন মিয়া (৪০), মো. জুয়েল মিয়া (৩০), রাব্বী মিয়া (২৫), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (২৫) এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০)। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়ার অনুসারী নবগঠিত পৌর ছাত্রদল কমিটির সভাপতি এনামুল হক আপেল ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের করে পৌর শহরে প্রবেশ করে। মিছিলটি পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁসহ ছাত্রদলের একটি অংশ অবৈধ কমিটির মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করে। একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে মুশফিকুর রহমানের অনুসারী ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।
সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী পদবঞ্চিত রাজু আহমেদ বলেন, গত তিন দিন আগে কালো টাকার বিনিময়ে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে তাঁদের ইচ্ছেমতো উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। তাদের আনন্দ মিছিলে বাধা দেওয়ায় আমাদের কয়েকজনকে হামলা করে আহত করেছে। এই অবৈধ কমিটি বাতিল করতে হবে। কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিগত দিনে আমাদের অনেক নির্যাতন ও হামলা-মামলা সহ্য করতে হয়েছে। অথচ আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটির সভাপতি এনামুল হক আপেল জানান, ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ কসবা উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি ঘোষণার পর থেকে এমপি সাহেবের অনুসারীরা এই কমিটির প্রতিবাদ করছেন। প্রায় ১০ বছর পর উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন হওয়ায় আমরা বুধবার সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আনন্দ মিছিল বের করি। মিছিল প্রায় শেষ পর্যায়ে, এ সময় ছাত্রদল নেতা রাজু আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ এসে পরিকল্পিতভাবে আমাদের মিছিলে হামলা করে। পরে মিছিলের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে সরে যায়। একই দলের লোক হয়ে আনন্দ মিছিলে বাধা দিয়ে হামলা করা কখনোই কাম্য নয়। বিগত দিনে আমাদের অনেক মামলা-হামলা সহ্য করতে হয়েছে।
কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১০ বছর পর সিরাজুল ইসলাম ইমুকে সভাপতি ও শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কসবা উপজেলা ছাত্রদল কমিটি এবং এনামুল হক আপেলকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পৌর ছাত্রদল কমিটি অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয় নবগঠিত কমিটিকে। এই কমিটি ঘোষণার পর থেকে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত একাংশ এর প্রতিবাদ করে আসছে। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ২ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়া ও আবদুর রহমান সানির কুশপুত্তলিকা তৈরি করে দাহ করে।



















