Main Menu

আখাউড়ায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, অতিষ্ঠ গ্রাহকরা

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। কয়েক দিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও কাজ ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. বাছির মিয়া বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে সকাল, বিকেল ও রাতে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।”
আরেক বাসিন্দা মো. ফরিদ মিয়া বলেন, “আগে দিনে ও সন্ধ্যায় লোডশেডিং হলেও গভীর রাতে তুলনামূলক কম হতো। এখন রাতেও বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দেড় ঘণ্টাও থাকে না। ফলে রাতে ঘুমানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
এসএসসি পরীক্ষার্থী লিমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অসহনীয় গরমে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসায়ী মো. রাসেল মিয়া বলেন, “আমাদের কাজ পুরোপুরি বিদ্যুৎনির্ভর। সকালে দোকান খুললেও অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে কাজ করতে না পেরে বসে থাকতে হয়, এতে আয়ও কমে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামশেদ মিয়া বলেন, “লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
উপজেলা সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “গ্রাহক টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনেও চাহিদামতো সেবা না পাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রত্যাশা করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জহির আব্বাস খান বলেন, “বর্তমানে গ্রাহকের তুলনায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে লোডশেডিং কমিয়ে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এছাড়া অনেক সময় মূল লাইনে ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়।”





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares