Main Menu

বিজয়নগরে প্রধান শিক্ষককে মারধোর করেছে আওয়ামীলীগ নেতা

[Web-Dorado_Zoom]

প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় উপজেলার মেরাশানী পলিটেকনিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে বেদম মারধোর করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আনোয়ার হোসেন ও তার লোকেরা। মারধোর শেষে ৭দিনের মধ্যে তাকে ১ লাখ টাকা না দিলে শিক্ষককে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকী দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তুলাতুলা মোড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সকালে এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেরাশানী পলিটেকনিক একাডেমী পরিচালনা কমিটির সদস্য।
মেরাশানী পলিটেকনিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারী স্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসেবে জয়নাল আবেদীন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ফারুক আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী তারা যোগদান করেন। আনোয়ার হোসেন নতুন যোগদানকৃত  শিক্ষকদের কাছে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন, অন্যথায় তাদেরকে স্কুলে আসতে দেওয়া হবেনা। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষকরা স্কুলে আসলে আনোয়ার তাদের স্কুলে ঢুকতে বাঁধা দেয় এবং তাদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এ অবস্থা দেখে আমি ও মেরাশানী বাজার কমিটির সভাপতি আওয়াল মিয়া এগিয়ে গেলে আমাদের সাথেও আনোয়ার খারাপ আচরন করেন। এ ব্যাপারে আমি বিজয়নগর থানায় সাধারন ডায়রী করে সন্ধ্যায় বাড়ী ফেরার পথে তুলাতুলা মাদ্রাসার নিকট সিএনজিচালিত অটোরিকসা আটক করে দলবল সহ আমাকে মারধোর করে। ৭দিনের মধ্যে ১লাখ টাকা না দিলে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে  রবিবার সকাল ১০টার পর এলাকার ছাত্রছাত্রী, বাজারের ব্যাবসায়ী ও সাধারন মানুষ আনোয়ারের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
মেরাশানী বাজার কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক সোলেমানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিন পান্টুস, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহাম্মেদ নিজামী বলেন, অনৈতিক দাবি পূরন না করায় আনোয়ার প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে মারধর করেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যাবস্থা নিব।  
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম বলেন, আনোয়ার দুষ্ট প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষককে মারধোর করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি মেরাশানী পলিটেকনিক একাডেমীর পরিচালনা কমিটির সদস্য। প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ন অনৈতিকভাবে তার ভায়রা ভাই ফারুক আহমেদকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়। আমি এই নিয়োগের বিরোধিতা করায় তিনি আমার নামে অহেতুক থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares