সরাইলে লাঠির ঝনঝন শব্দে ফিরল গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য
[Web-Dorado_Zoom]
মোহাম্মদ মাসুদ : বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। নোয়াগাঁও পূর্বপাড়ার মাঠজুড়ে তখন মানুষের ঢল। চারপাশে উৎসুক চোখ, শিশুদের কৌতূহল আর নারী-পুরুষের সরব উপস্থিতি। হঠাৎ করেই বদলে গেল পরিবেশ—শুরু হলো লাঠির ঝনঝন শব্দ। একের পর এক কসরত, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের কৌশল আর খেলোয়াড়দের শারীরিক নৈপুণ্যে জমে উঠল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ায় অনুষ্ঠিত এ লাঠিখেলা ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ খেলাটি দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ছুটে আসেন।
খেলার মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে দর্শকেরা উপভোগ করেন খেলোয়াড়দের নানা কৌশল ও শারীরিক কসরত। লাঠির ছন্দময় চাল, ক্ষিপ্রতা আর প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার কৌশলে কখনো উচ্ছ্বাস, কখনো করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারাজ আলী মেম্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানুল হক মৃধা, যুবদল নেতা নান্নু মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা সোহাগ মিয়া, মহিলা মেম্বার নাদিরা বেগম, লায়েছ মিয়া, জামাল মিয়া, দুলাল মিয়া, ছৈয়দ হোসেন, যুবদল নেতা উজ্জল মিয়া ও ছাত্রদল নেতা রুবেল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোর্শেদ জামান জালাল।
লাঠিখেলার প্রতিটি পর্বে খেলোয়াড়দের দক্ষতা আর কৌশল দর্শকদের আকৃষ্ট করে। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে লাঠির দ্রুত চালনা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং পাল্টা কৌশল প্রদর্শনের সময় দর্শকদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস।
স্থানীয়দের কাছে লাঠিখেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন উৎসব, মেলা ও সামাজিক আয়োজনে লাঠিখেলা ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে এই লোকজ খেলাটি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
আয়োজকেরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলাকে পরিচিত করিয়ে দেওয়া এবং লোকজ সংস্কৃতির এই ধারাকে ধরে রাখতেই এ আয়োজন। হারিয়ে যেতে বসা খেলাটি আবারও মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করছে—এটাই আয়োজনের বড় সার্থকতা।
নোয়াগাঁওয়ের মাঠে বিকেলের এই আয়োজন তাই শুধু একটি খেলা ছিল না; কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন ফিরে এসেছিল গ্রামবাংলার সেই চেনা দিন—যেখানে বিনোদনের কেন্দ্রে ছিল মাঠ, মানুষের মিলন আর নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতি।
« আশুগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা (Previous News)
(Next News) নবীনগর আদালত পরিদর্শনে হাইকোর্টের দুই বিচারপতি »



















