Main Menu

সরাইলে টানা তিন দিনের সংঘর্ষের পর শান্তির আভাস, জেলা পরিষদ প্রশাসকের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এলাকায় শান্তির আভাস দেখা দিয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সংঘাত বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর পর সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা নিয়ে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন।
সোমবার নিহত হাদিম মিয়ার দাফনের পর আবারও দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
মঙ্গলবার সকালেও তৃতীয় দিনের মতো দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ কয়েক শতাধিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার পর উভয় পক্ষ থেকে পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি ভবিষ্যতে সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি জানান।
পরে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিহত হাদিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে বিরোধের স্থায়ী সমাধানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসকের উদ্যোগের পর এলাকায় উত্তেজনা অনেকটাই কমেছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করেছে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares