মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আজ শনিবার উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা চলে সংঘর্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়া এবং একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আহমেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ বাধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ফুটবল খেলা শেষে বাড়ি ফিরছিল আবুল হোসেনের পক্ষের আপন মিয়া (১৮) ও বায়েজিদ আহমেদ (১৬)। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাদের পেয়ে মারধর করেন আতিকুর রহমানের লোকজন। এ ঘটনার জের ধরে এদিন বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় টিয়ারা বাজারে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে টিয়ারা বাজারে আবারও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দা, ছুরি, টেঁটা, বল্লমসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।বেলা একটা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৪০ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি লোকজন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকসহ নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
আহত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আবু কাউসার, শেখ ফরিদ ও মো. আলামিন বলেন, সকালে কথা কাটাকাটি পর উভয় পক্ষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে নামে। পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আবুল হোসেন ও আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আবুল হোসেনের পক্ষের আহত আবু কাউসার নামের একজন বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার ইউনিয়নের ভদ্রগাছা গ্রাম থেকে ফুটবল খেলে ফেরার পথে আপন ও বায়েজিদকে মারধর করে শিশু মিয়ার (আতিকুর রহমান) লোকজন। বিকেল পাঁচটার দিকে টিয়ারা বাজারে গলে তারা আবার হামলা চালায়। আমরাও পরে হামলা চালাই।’
এর আগে ১ ও ২ জুন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আবুল হোসেনের পক্ষের ইকবাল মিয়া নামের একজন আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই আতিকুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২৫ থেকে ৩০ জন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও একই গ্রামের আতিকুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে এবারও তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে পরিস্থিত শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় (Previous News)
(Next News) সুলতানপুরে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, খেলবে ১৬ দল, চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার মোটরসাইকেল »



















