Main Menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিত্যপণ্যের দামে আগুন, ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

[Web-Dorado_Zoom]
লেবু ১৫০-২০০ টাকা হালি, বেগুন ১০০-১২০ টাকা কেজি, খিরা ৯০-১০০ টাকা কেজি, কলার হালি ৪০-৫০ টাকা, আনারস প্রতিটি ১০০ টাকা এবং খেজুর ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৮০০ টাকা
রমজান শুরু হতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজার, মেড্ডা বাজার ও ফারকি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা হালি, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ টাকা কেজি, শসা ৯০ টাকা কেজি, কলা ৪ পিস ৫০ টাকা, আনারস প্রতিটি ১০০ টাকা এবং খেজুর ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার রমজানের শুরুতেই পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সীমিত আয়ে ইফতার ও সাহরির বাজার করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম দামের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই রমজান শুরু হওয়ায় বাজার মনিটরিং কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং তুলনামূলকভাবে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে বলে তারা জানান। তাদের মতে, রমজানের ১০ দিন অতিক্রম করলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে।
তবে ক্রেতারা এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রতিবছরই একই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়। কার্যকর তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, শহরের মসজিদ রোড ও কোট রোড এলাকায় চারজন খেজুর ব্যবসায়ীকে রসিদ না রাখা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ না করার অভিযোগে অতিরিক্ত দামে খেজুর বিক্রির দায়ে মোট ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোনো পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হলে ভোক্তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। বাজার তদারকিতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।
স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ তদারকি জোরদার করা গেলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অন্যথায় রমজানজুড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares