বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে নিয়মিত আসেন না চিকিৎসক, সিজারিয়ান সেবা ব্যাহত
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর এক মাস না যেতেই তা নিয়মিতভাবে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকরা নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত জুন মাসে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১৫ জুন অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান এবং ১৬ জুন গাইনি কনসালট্যান্ট সুস্মিতা সাহা যোগ দেন। ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু হয়।
সেবা চালুর পর স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে প্রসূতি সেবা পাওয়ার আশা তৈরি হলেও অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় কার্যক্রম সপ্তাহে মাত্র দুই দিনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। রোববার ও বুধবার নির্ধারিত দিনে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অন্য দিন জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হলে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
ফরদাবাদ গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা তানজিনা আক্তার বলেন, সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দুদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দিনই গাইনি চিকিৎসককে পাননি। পরে বাধ্য হয়ে পাশের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন তিনি।
তানজিনা বলেন, ‘আমরা তেমন সচ্ছল না। সরকারি চিকিৎসা পেলে আমাদের অনেক উপকার হতো। সরকার চিকিৎসক দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টের।’
একজন রোগীর স্বজন সিপন মিয়া বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর ঘোষণা শুনে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক না থাকলে এই ঘোষণার সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে?’
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই গাইনি কনসালট্যান্ট সুস্মিতা সাহা ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। নির্ধারিত রোববার ও বুধবার তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন। অন্য দিনগুলোতে অনেক রোগী এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যান।
তবে অ্যানেসথেশিয়া কনসালট্যান্ট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গাইনি কনসালট্যান্ট না থাকলে তো আমার গিয়ে কোনো লাভ নেই। জরুরি প্রয়োজনে সিজারিয়ান অপারেশন দরকার হলে আমাকে কল দিলে আমি দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে সেখানে যেতে পারব।’
গাইনি কনসালট্যান্ট সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘রবি ও বুধবার ছাড়া আমি অন্যদিনও যাই। মাঝে মধ্যে সমস্যা হলে তখন ভিন্ন বিষয়।’ তবে মঙ্গলবার হাসপাতালে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানালেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ছুটিতে ছিলেন না।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মণ বলেন, ‘এখানে রোববার ও বুধবার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। নির্ধারিত দুদিন ওই দুজন চিকিৎসক অবশ্যই থাকেন।’
সপ্তাহে ছয় দিন চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাস থেকে আরও এক দিন বেশি থাকার ব্যবস্থা করা হবে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, বাঞ্ছারামপুরে সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনার জন্য একজন গাইনি ও একজন অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সপ্তাহের ছয় দিন তাঁদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি না থাকেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিস ফাঁকি দিয়ে কেউ অন্য কোথাও চিকিৎসা দিতে পারবেন না।’
« ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক (Previous News)
(Next News) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সের ঘটনা ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদের প্রতিশোধমূলক অপচেষ্টা’: খেলাফত মজলিস »



















