নবীনগরে হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদ বন্ধের অভিযোগ, ৩-৪ দিনের মধ্যে আবাদ না হলে শেষ কৃষকদের স্বপ্ন
[Web-Dorado_Zoom]
মাঠজুড়ে ফসল ফলানোর স্বপ্ন। কেউ আলু, কেউ শসা, বেগুন, সরিষা কিংবা মরিচ চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জমি তৈরি, বীজ সংগ্রহ আর পরিবারের খরচের হিসাব—সবকিছুই নির্ভর করছে সময়মতো চাষাবাদ শুরু করার ওপর। কিন্তু সেই জমিতেই এখন লাঙল চালাতে পারছেন না কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের বাধায় বন্ধ রয়েছে প্রায় এক হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ। সময়মতো আবাদ করতে না পারলে এক মৌসুমের স্বপ্নই শুধু নয়, পরিবারের সারা বছরের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।
এ চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামের নতুন পাড়ার। জমিতে চাষাবাদের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী ও বাসিন্দারা। এতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তার কথা। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে না পারলে অনেক ফসলের আবাদ মৌসুমই হাতছাড়া হয়ে যাবে।
কৃষক-কৃষাণীরা অভিযোগ করেন, গ্রামের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩ অক্টোবর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর নবীনগর থানায় মামলা হয়। এরপর নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম ফোন করে কৃষক ওবায়দুলকে জমিতে চাষাবাদ না করার নির্দেশ দেন বলে তাঁদের অভিযোগ। এর পর থেকেই জমিতে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমের আবাদ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব জমিতে আলু, শসা, বেগুন, বাদাম, সরিষা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন প্রতিটি দিন তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, জমির ফসল বিক্রি করেই তাঁদের সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সারা বছরের প্রয়োজন মেটাতে হয়। চাষাবাদ বন্ধ থাকলে শুধু জমি অনাবাদি থাকবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হবে।
আক্ষেপ করে একাধিক কৃষক বলেন, ‘আমরা জমিতে চাষাবাদ করে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সময়মতো চাষ করতে না পারলে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। আমরা কোনো ঝামেলা চাই না, শুধু জমিতে চাষ করার সুযোগ চাই।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তাজুল ইসলাম, কৃষক মাহমুদ আলী, লেয়াকত আলী, তাজু মিয়া, রহমত উল্লাহ ব্যাপারী ও কৃষাণী ময়না বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা বলেন, গ্রামের বিরোধের কারণে কৃষকদের জীবিকা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কৃষকদের নির্বিঘ্নে জমিতে চাষাবাদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
একদিকে গ্রামের বিরোধ ও মামলা, অন্যদিকে মৌসুম হারানোর শঙ্কা—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে দিশেহারা চরলাপাংয়ের কৃষকেরা। তাঁদের কাছে এখন জমিতে ফসল ফলানোর সুযোগটুকুই সবচেয়ে বড় চাওয়া। কারণ, সময়মতো বীজ বুনতে না পারলে মাঠে আর ফসলের দেখা মিলবে না, পূরণ হবে না তাঁদের পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্নও।
« বাঞ্ছারামপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন (Previous News)



















