Main Menu

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হল স্মারকলিপি

আনন্দ বাজারের বাঁশ পট্টির লীজ বাতিলের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

[Web-Dorado_Zoom]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বাজারসংলগ্ন পুরোনো বাঁশ বাজারের খাস জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, জায়গাটি বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তাঁদের নাম প্রকাশ করছে না।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহরের আনন্দ বাজার, টান বাজার, জগৎ বাজার, সড়ক বাজার, নিউমার্কেট, চাল বাজার ও সবজি বাজারের ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখানে মানববন্ধন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজার মাছ ও শুঁটকি মহলের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুত্তাকিম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসনাত ভজন, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেরাজ আহমেদ, টান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাঁশ বাজারে প্রায় ২১ শতাংশ খাস জায়গা আছে। কয়েক বছর আগে বাজারটি শহরের মেড্ডায় স্থানান্তর করা হয়। জায়গাটি ছাড়া ব্যবসায়ীদের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে আনা মালামাল ওঠানো-নামানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় সম্প্রতি ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশের খাস জায়গাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩ জন অপরিচিত ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বক্তারা জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সরেজমিনে বাঁশ বাজারে দেখা যায়, সেখানে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। চারপাশে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। জায়গাটিতে উপজেলা হাটবাজার বন্দোবস্ত কমিটির পক্ষে দুটি বড় ব্যানার লাগানো।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, খাস খতিয়ানের জায়গাটি ৩৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৩৩ জনের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘বহু বছর ধরে জায়গাটি ময়লার ভাগাড় ছিল। ব্যবসায়ীরা জায়গাটি বন্দোবস্ত চেয়েছেন। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। যাঁরা বন্দোবস্ত পেয়েছেন, তাঁরা সেখান থেকে ১৫-২০ ট্রাক ময়লা সরিয়েছেন। বালু ফেলে সুন্দর করায় এটি অন্যদের চোখে পড়েছে। পাঁচ বছর আগে কে বা কারা সেখানে ব্যবসায়ীদের ট্রাক রাখতে বলেছেন, এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। হাটবাজারের জায়গা ট্রাক রাখার জন্য বরাদ্দ দিতে পারি না। আমাদের ঝোলানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনওকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares