Main Menu

‘অভিমানী’ শিশুর অন্যরকম জন্মদিন পালন!

[Web-Dorado_Zoom]

ছবিটা দেখে হুট করে বলা মুশকিল এটা কি? তবে বলার পর সহজেই বুঝা যায়। ছুরি হাতে একজন দাঁড়িয়ে। সামনেই ‘ডল কেক’। অদূরে আরো একটা কেক। উপরের দিকে বেলুনসহ নানা কিছু দিয়ে সাজানো। বুঝা গেলো এটা জন্মদিনের আয়োজন।

রং তুলিতে এমন ছবি আঁকা সাধারন বিষয়। তবে সবে পাঁচ পেরুনো শিশু শুভ্রজিৎ এর বেলায় এটা একেবারেই ভিন্ন। পরিবার জন্মদিন পালনে ‘না’ করায় অভিমান থেকেই তার এ আঁকা। অথচ ছোট্ট এই শিশুর রং তুলিতে কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ নেই। তবে আঁকা নিয়ে তার একটা আগ্রহ আছে।

শুভ্রজিৎ পাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা। পড়াশুনা করে স্থানীয় মেধা বিকাশ প্রিক্যাডেট স্কুলের প্লে তে। তার বাবা কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু। রবিবার বিকেলে শুভ্র ছবিটি আঁকে বলে জানায় পরিবারের লোকজন। রবিবার ছিলো তার জন্মদিন।

পরিবারের লোকজন জানায়, মাস কয়েক ধরেই জন্মদিনে কেক কাটা নিয়ে ‘জপ’ করে আসছিলো শুভ্রজিৎ।কিভাবে কি আয়োজন হবে সেটা নিয়ে ঘরে প্রতিদিন নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হতো। কাকে কাকে নিমন্ত্রণ করা হবে সেটা নিয়েও তার আলোচনার কমতি নেই। তবে শুভ্রজিৎ এর মায়ের অসুস্থতার কারণে আপাতত জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তার বড়ভাই কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়ুয়া রুদ্রজিৎ পুজার ছুটিতে বাড়িতে এলে জন্মদিন পালনের কথা বলা হয়।

সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল জানান, উপহার কিনে দেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিলো না। সন্ধ্যায় আমাদেরকে বলেই বসলো তোমরা কেউ আমার কথা শুনো না। এরপর অভিমান নিয়ে সামনে থেকে সরে যায়। কান্না করে। বুঝিয়ে আবার বলা হয় কয়েকদিন পর কেক কাটার কথা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে শুভ্রজিৎ ওষুধ কম্পানির একটি প্যাডে কিছু একটা অঁকাতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ছবিটা এঁকে এনে শুভ্র বললো, ‘বাবা এইতো আমার জন্মদিন।’ কেক দুইটা কেন?- এমন প্রশ্নে সাফ জবাব, ‘দাদা (ভাই) এলে আরেকটা কাটবো। এ অবস্থায় তার অনুভুতির কথা ভেবে ‘থ’ হয়ে যাই। যদিও রাত ১০টার পর সুহৃদরা কেক নিয়ে এসে হাজির হন। বাসায় এসে কেক কাটার বিষয়টা জানতে পেরে ভালো লাগে।’
পরিবারের লোকজন আরো জানায়, আঁকার প্রতি শুভ্রজিৎ এর আগ্রহ আছে। তবে এখনো তাকে হাতে-কলমে কিছু শেখানো হয়নি। কিন্তু জন্মদিনের বিষয়টি মনের মাঝে গেঁথে ফেলায় হয়তো সে কল্পনা করে তার জন্মদিনটা কেমন হতে পারতো সেটা এঁকে ফেলেছে। বাড়ির সবাইকে বিষয়টি অবাক করে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares