মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটক
[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আটক শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আব্দুল্লাহ ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল। পরে পারিবারিক কারণে তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। মাদ্রাসায় ফেরার পর তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে, নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ছাত্রের অবস্থা দেখে আমি মর্মাহত হই। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। তার সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, “ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে এলাকাবাসীর অবরোধ থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শিক্ষার্থীর ওপর এমন নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
« নবীনগরে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু (Previous News)



















