ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তারুণ্য, উচ্ছ্বাস
[Web-Dorado_Zoom]
দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে গানে মাতল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। ব্যান্ডটির শিল্পী হাসান ইথার ও তাঁর দলের পরিবেশনায় একের পর এক গানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। পরে মঞ্চে ওঠেন ঢাকার ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথার ও তাঁর দলের সদস্যরা। তাঁদের পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তিনটি গান পরিবেশনের পর আসরের নামাজের জন্য কিছু সময় বিরতি দেওয়া হয়। পরে আবারও গান পরিবেশন শুরু হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস, কলেজপাড়ার সড়ক ও দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদেও অনেকে অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন পর নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীরা জানান, অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে গত কয়েক দিন নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত।
এর আগে নবীনবরণে কনসার্ট আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে কলেজ ছাত্রদল ও কওমি ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের আলোচনা হয়। এরপর অনুষ্ঠানটির স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব। কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির নবীনবরণ উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া গত ৩০ মে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনীও বন্ধ হয়ে যায়।
« আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ (Previous News)
(Next News) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চালু হলো ডিজিটাল হাজিরা »



















