Main Menu

আখাউড়া স্থলবন্দরে কমেছে আমদানি-যাত্রী পারাপার, রাজস্ব আয়েও ধস

[Web-Dorado_Zoom]
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা জটিলতার প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি, যাত্রী পারাপার ও সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। সম্প্রতি ভারতের আগরতলায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি। তবে একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি নেমে এসেছে মাত্র ১৭৭ মেট্রিক টনে। ফলে আমদানি খাতে সরকারের রাজস্ব আয় কমে ৭১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত কর্তৃক বাংলাদেশি কয়েকটি পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা, ব্যবসায়ীদের ভিসা জটিলতা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে সীমান্ত বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসেনি।
বাণিজ্যের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত গেছেন ৪৬ হাজার ৪৬১ জন যাত্রী। এতে ভ্রমণকর বাবদ সরকারের আয় কমে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ৬ কোটির বেশি ছিল।
আখাউড়া স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রাশেদুল সজীব নাজির জানান, গত অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং প্রায় ৮০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
এদিকে সীমান্ত বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সম্প্রতি ভারতের আগরতলায় দুই দিনের বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তারা। বৈঠকে সীমান্ত বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর, পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আখাউড়া রুট ব্যবহার করে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে আখাউড়া স্থলবন্দরে আবারও আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া আখাউড়া স্থলবন্দর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী স্থলবন্দর।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares