Main Menu

১৯ মাস ধরে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা

[Web-Dorado_Zoom]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানায় ১৯ মাস ধরে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটিকে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
আশুগঞ্জ সার কারখানাটির দৈনিক অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশে সারের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
বুধবার সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় সার উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দেশে সারের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের তারাকান্দির যমুনা সার কারখানাতেও দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর টানা ২৩ মাস ৯ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সেখানে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
তবে উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। গত জুনে সংসদে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাওয়া গেলে যমুনা সার কারখানা পরিচালনায় সমস্যা নেই।
আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধের কারণ হিসেবেও গ্যাস সংকটের কথা সংসদে জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গ্যাস সরবরাহ করতে হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানায় তখন গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিসিআইসি জানিয়েছে, তাদের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন সময়ে এসব কারখানার উৎপাদনও বন্ধ বা সীমিত রাখা হয়েছে।
বুধবারের বৈঠকে বন্ধ সার কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং সারের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায় কত সার রয়েছে ও কোথায় যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করতেও সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ও বীজ উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares