স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানে ঘরছাড়া জামরুল ফিরলেন স্বজনদের কাছে
[Web-Dorado_Zoom]
স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে পড়েছিলেন নেত্রকোনার জামরুল মিয়া (২৯)। পরে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। নিজের পরিচয় জানাতে না পারায় অজ্ঞাতনামা রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সামাজিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর উদ্যোগে জামরুল মিয়াকে তার চাচা কাসেম মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার আরেক চাচা আব্দুর রাশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে নেত্রকোনার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
জামরুল মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের বিয়ারালী গ্রামে। তিনি মৃত এরশাদ মিয়ার ছেলে। স্ত্রী লিপি আক্তার ও এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন জামরুল। তিনি আগে প্রায় চার বছর কসবা এলাকায় কৃষিকাজ করেছেন। বাড়ি ছাড়ার পর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী এলাকায় আসেন। পরে রাতে মোটরসাইকেলে কসবার দিকে যাওয়ার সময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সার্জারি বিভাগে অজ্ঞাতনামা রোগী হিসেবে তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্য, চিকিৎসক-নার্স এবং ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় তার পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
হাসপাতাল পুলিশ বক্সে কর্মরত কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, হাসপাতালে আনার সময় জামরুল নিজের পরিচয় দিতে পারছিলেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. আজহার উদ্দিন বলেন, অসহায় ও পরিচয়হীন অবস্থায় থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। জামরুলের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ, যাতায়াত ব্যয় ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
জামরুলের চাচা কাসেম মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন ছিল। ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ ও পুলিশের সহযোগিতায় তাকে ফিরে পেয়ে তারা কৃতজ্ঞ।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার পর জামরুলকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে একজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
« ১৫২ মিটার অবৈধ গ্যাস নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয়, তিনজনকে জরিমানা (Previous News)
(Next News) নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিদিনের ৬-৭ হাজার যাত্রী, অপরাধ শনাক্তে বিপাকে রেলওয়ে পুলিশ »



















