Main Menu

আখাউড়ায় শ্মশাণের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ

[Web-Dorado_Zoom]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশাণ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বাধায় সাময়িকভাবে দখল বন্ধ হলেও জায়গাটির সামনে বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে ঘর উঠানোর জন্য। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাাধিক সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখলের পায়তারা করছেন। শ্মশাণের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকা ব্যক্তি ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। শত বছর ধরে এখানে শ্মশাণটি অবস্থিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাধানগর কলেজ পাড়ার আনিসুর রহমান ভূইয়া নামে এক ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি রিট পিটিশনের আলোকে খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি চিহ্নিতকরণ কাজ শুরু করে উপজেলা ভূমি অফিস। বুধবার দুপুরে জমি পরিমাপ করে শ্মশাণের ভিতর লাল পতাকা টানানো হলে এতে কমিটির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। সরকার শুধু জায়গার পরিমাপ করবে। সরকার এ জায়গা নিতে আসেনি। এ অবস্থায় পরিমাপ কার্যক্রম চলতে থাকে। এক পর্যায়ে আনিসুর রহমানের লোকজনের পক্ষ থেকে বলাবলি শুরু হয় খাস খতিয়ানের পরের অংশটুকু তাদের জায়গা। এ কথায় সায় দেয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। প্রশাসনের পক্ষে পরিমাপ করে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় শ্মশাণের অভ্যন্তরে থাকা জায়গা দখলের জন্য টিন, বাঁশ নিয়ে আসা হয়। কমিটির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে এতে আপত্তি জানায়। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে আহবান জানান।
সেবাশ্রম ও মহাশ্মশাণের পুজারি আশীষ ব্রহ্মচারি জানান, আনিসুর রহমান ও তার ভাইদের সঙ্গে শ্মশানের জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ২০১৪ সালের একটি রিটপিটিশনের কথা বলে প্রশাসনের পক্ষে এখানে মাপজোঁক করা হয়। বিএস ম্যাপ অনুযায়ি শ্মশাণের কিছু জায়গা খাস খতিয়ানের বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সিএস আর আরোয়ার অনুযায়ি এটি ম্যাপে শ্মশাণের জায়গা। এ নিয়েও মামলা চলমান। রিটপিটিশনে শ্মশাণকে পক্ষ না করেই কৌশলে মিথ্যা তথ্য নিয়ে জায়গা পরিমাপের আদেশ আনানো হয়। যদিও এ আদেশ ওই সময়ই বাতিল হয়ে যায়। নতুন করে প্রশাসন কিভাবে আদেশ পেলো সেটি জানা নেই। এ বিষয়ে তারা আইনগতভাবে লড়বেন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ ঘর তোলার প্রস্তুতি নেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
শ্মশাণ কমিটির সভাপতি হিরালাল সাহা বলেন, ‘জায়গা পরিমাপ বিষয়ে আমাদেরকে অবগত করা হয়নি। জায়গা নিয়ে মামলাও চলমান আছে। এ অবস্থায় খাস জমি চিহ্নিত করতে গিয়ে একটি পক্ষকে জায়গা দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের যে কাগজপত্র আছে সেটি নিয়ে আমরা ইউএনও ও অ্যাসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন উচ্চ আদালতের আদেশে খাসজমি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু কাউকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।’
ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, ‘রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ি খাস জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা শুধু আদেশ পালন করেছি মাত্র। শ্মশাণের ভিতরে কিছু খাস জমি আছে। চাইলে শ্মশাণ কর্তৃপক্ষ এ জায়গার জন্য আবেদন করা বা অন্য কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে কাউকে কোনো জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares