Main Menu

ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা! গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা

[Web-Dorado_Zoom]

গোষ্ঠীগত দ্বন্দের সর্বশেষ বলি রিছাল

প্রতিনিধি ::ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ার রিছাল পাঠান (২৪) নামের এক যুবককে পিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হামলার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সে মারা যায়। নিহত রিছাল শহরের কান্দিপাড়া মহল্লার পাঠান মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন পাঠানের পুত্র। তাদের সঙ্গে আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম তাদের প্রতিবেশী।
নিহত রিছালের বাবা ইয়াছিন পাঠান বলেন, পূর্ব শত্রুতার আক্রোশে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক মিয়াসহ তার লোকজন আমার ছেলেকে খাল পাড় এলাকায় হর্কাস মার্কেটের সামনে ছিনতাইকারি বলে পিটুনি দেয়। এখন তারা দলীয় প্রভাবে এটাকে গণপিটুনি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত শত্রুতা মেটাতেই তারা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হামলা শেষে মেরে ফেলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হর্কাস মাকের্টের সামনে ২০/২২ জন তার উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারিরা ছিনতাইকারি বলে চেঁচাতে থাকে। তবে হামলাকারিদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তাদেরকে এসব দিয়ে রিছালের মাথা ও কপালে আঘাত করতে দেখা গেছে। সূত্র জানায়, আহত রিছালকে কতিপয় লোকজন পরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। রিছাল পানি চাইতে গেলে এক সময় তার মুখে প্র¯্রাব করে দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রিছালের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘তাৎক্ষণিক লোক মারফত খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে রফিক ও তার সহযোগী হেলাল, বাপ্পা, নিয়াজসহ কয়েকজন আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পেটাতে ও কোপাতে থাকে।চোখের সামনে এসব দেখে আমি ছেলেকে বাঁচাতে রফিকের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই। কিন্ত তারা আমার কথা শুনেনি। এক পর্যায়ে আমি ছেলেকে বাঁচাতে তার উপর হামলে পড়লে তারা আমাকেও মারধর করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হকার্স মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিছালকে পেটানোর একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।তাঁরা জানান, হামলাকারীরা রিছালের মাকেও পিটিয়েছে। পরে তারাই আবার ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
রিছালকে হাসপাতালে আনার পর সার্জারি ওয়ার্ডের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসার অভাবে তিনি একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।দিনটি শুক্রবার হওয়ায় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বিভিন্ন এলাকায় প্র্যাকট্রিস করতে চলে যান। ডাক্তারদের অনুপস্হিতি সম্পর্কে তত্বাবধায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ মনির কিছুই জানাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিছালকে বমির, ব্যাথার ও ঘুমের ঔষধ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন গতকাল কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে বলেন, চিকিৎসা করার সময় রিছালের স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি।
সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে রিছালের লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল করে। কে বা কারা তাঁকে হাসপাতালে রেখে গেছে এবং কারা তাঁকে মেরেছে এসবের কিছুই জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সকালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। রিছালের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোসহ দুটো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
লাশের সুরতহালকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বলেন, রিছালের কপাল, মুখ, দুই হাত ও ডান পায়ের গোড়ালিতে কোপের চিহ্ন রয়েছে।
লাশ নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
গত রাতে আওয়ামী লীগের নেতা রফিকের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে পুলিশ পাহারা দেখা গেছে। এ সময় পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিকেল থেকে ওই বাড়িতে পাহারা দিচ্ছেন।
এদিকে রফিকের মুঠোফোনও বন্ধ। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, এ ঘটনায় নিহত রিছালের পরিবারের পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে হেলাল মিয়া, জুফিক মিয়া, সালাল মিয়া, বাপ্পা মিয়া, জিয়ার উদ্দিন ও রফিকের বড় ভাই চানু মিয়া সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলা নং ২, ১/১১/২০১৪






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares