ভুল চিকিৎসায় কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ
শামীম উন বাছির : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্যানাশিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর চিকিৎসকসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। পরে অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি তিন লাখ টাকায় রফাদফা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মোবাইল ফোন না ধরায় সিভিল সার্জনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় তোলপাড় চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারি ইউনিয়নের মেহারি গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে ও এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আসমা আক্তারের অ্যাপেন্ডিসাইডের ব্যথার জন্য পৌর আধুনিক পৌর মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্যানাশিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়াটারে নেওয়া হয় আসমাকে। স্বজনরা অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের সময় আসমার মৃত্যু হলে চিকিৎসকরা পালিয়ে যায়।
প্রায় দু’ঘন্টা পর্যন্ত কাউকে অপারেশন থিয়েটারের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য আত্মীয় স্বজন ও এলাকার লোকজনকে খবর দিয়ে মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতাল থেকে আসমার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পারিবারিক অবস্থা ও বিভিন্ন চাপের কারণে তিন লাখ টাকায় আসমার পরিবার বিষয়টি আপস মীমাংসায় রাজি হয়ে যান।
আসমার চাচা মো. সোলায়মান বলেন, ’অ্যাপেন্ডিসাইডের ব্যথার অপারেশনে কেউ মারা যায় না। অবশ্যই ভুল চিকিৎসার কারণে এমন হয়েছে’। লাশ উদ্ধার করে আনা আসমাদের প্রতিবেশি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ’আমি শহরের বাসায় ছিলাম। ঘটনার পর আমাকে খরব দেওয়া হলে আমি ওই হাসপাতালে যাই। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাউকে পাইনি’।
আসমার এক নিকট আত্মীয় মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে জানান, আসমাদের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তিন লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যে চেক পাওয়া গেছে তা নগদ করতে না পারায় লাশ দাফন করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্যানাশিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইব্রাহিম খান সাদাত বলেন, ’কোনো ধরণের ভুল চিকিৎসা হয় নি। অপারেশন শেষ করার ঘন্টা দু’য়েক পর রোগী মারা যায়। হয়তো তার হার্টে কোনো সমস্যা হয়েছিল। অপারেশন পরবর্তী সময়ে এমনিতেই বিভিন্ন সমস্যা দেয়’।
উল্লেখ্য, হাসপাতালটিকে অত্যাধুনিক বলা হলেও এখানে ব্যবহ্রত চিকিৎসার যন্ত্রপাতিগুলো পুরাতন। এ যন্ত্রপাতিগুলো অধুনালুপ্ত ইসলামীয়া হাসপাতাল থেকে ক্রয় করা হয়। সাইনবোর্ডে মেডিকেল কলেজ বলা হলেও এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই।



















