রোজা মুখেই পাওনা টাকা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
নাসিরনগরে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহতের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরুশ মিয়া গুনিয়াউক ইউনিয়নের চিতনা গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকার জিম্মাদার ছিলেন শ্রীঘরের নুরধন মিয়ার ছেলে শাহজাহান। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শ্রীঘর গ্রামের আরশ মিয়া ও নূরধন মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
পূর্বের সেই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলের পাশে মো. মজনু মিয়ার টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সুজন মিয়াকে (১৯) উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ওসি শাহীনুল ইসলাম জানান, পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বে মঙ্গলবার রাতে আরস মিয়ার লোকজন নূরধন মিয়াকে মারধর করে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ রাতে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে বুধবার সকালে আবারও তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















