Main Menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি বিদ্যালয়ের নাম বদলে দিল ছাত্রলীগ!

[Web-Dorado_Zoom]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম মুছে নতুন নাম লেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রামরাইলে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের নাম গাংগীহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গাংগীহাতা নামটি মুছে ‘মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ লেখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে। তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেন ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গতকাল সন্ধ্যায় কে বা কারা বিদ্যালয়ের নাম গাংগীহাতা পরিবর্তন করে দেয়ালে নতুন নাম মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লিখেছেন।

বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো. জুনায়েদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় এলাকার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিদ্যালয়ের নামটি মুছে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ে কেউ থাকে না। গতকাল সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের নামটি মুছে ফেলে নতুন নাম মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কে বা কারা লিখেছে, জানি না।’

স্থানীয় লোকজন জানান, রামরাইল ইউনিয়নের গাংগীহাতা গ্রামের নামটি স্থানীয় লোকজন পরিবর্তন করে মোহাম্মদপুর রাখেন। ওই গ্রামে গাংগীহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয় ভবনে সিমেন্টে লেখা গাংগীহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি এখনো রয়েছে। সেখানে বিদ্যালয় স্থাপনের সাল ১৯৪০ এবং পুনরায় নির্মাণের সাল ২০০৬ লেখা রয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনের দেয়ালে লেখা বিদ্যালয়ের নামটি মুছে ‘মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ লিখে দেন। ছাত্রলীগের ওই নেতা-কর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনের অনুসারী বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাতের বাড়িও ওই গ্রামে।

বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো. জুনায়েদ বলেন, এলাকাবাসী অনেক দিন ধরে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তিত হোক, চাইছেন। গতকাল সন্ধ্যায় এলাকার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিদ্যালয়ের নামটি মুছে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের দুজন বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য গ্রামের লোকজন ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাৎকে বলে আসছিলেন। এর মধ্যেই গতকাল সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের নাম মুছে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কেউ এ কাজ করেননি। গ্রামের লোকজন হয়তো এমনটি করে থাকতে পারেন। কারণ, মোহাম্মদপুর গ্রামের সবকিছুই এখন নতুন নামে রয়েছে। শুধু বিদ্যালয়টি অন্য নামে রয়েছে। বিদ্যালয়ের গাংগীহাতা নাম নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার জন্য গ্রামের লোকজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। সম্প্রতি গ্রামের লোকজন আরেকটি আবেদন করেছেন।

ইউএনও ইয়ামিন হোসেন বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন। তিনি বলেন, এমনি এমনি একটি নাম লিখে দিলেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তিত হয়ে যাবে না। বিষয়টি শোভন হয়নি। গেজেট অনুযায়ী বিদ্যালয়টির নাম গাংগীহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিষয়টি শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares