Main Menu

পদ্মায় ডুবে নিজের মৃত্যুর পরও মা ভাসিয়ে রাখলেন শিশুপুত্রকে

[Web-Dorado_Zoom]

padmaআনন্দবাজার, কলকাতা::নিজে ডুবে গেলেন মা। কিন্তু ডুবতে দিলেন না তিন বছরের ছেলেকে। ভরা পদ্মায় মায়ের আধডোবা মৃতদেহের উপর ভেসে বেঁচে রইল শিশু। মর্মান্তিক এই নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুষ্টিয়াতে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর শিশুটি যে রকম আশ্চর্যজনক রক্ষা পেয়েছে, তাতে হতবাক অনেকেই।

শনিবার সন্ধ্যার কিছু আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার মোহনায় শিশুটিকে জলে ভাসতে দেখেন একটি নৌকার যাত্রীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে জলে ভাসতে দেখে বেশ অস্বাভাবিকই লেগেছিল। কারণ শিশুটিকে দেখে বোঝা গিয়েছিল সে জীবিত। কিন্তু তিন বছরের শিশুর পক্ষে জীবিত অবস্থায় পদ্মায় ভেসে থাকা কী করে সম্ভব, তা প্রথমে বোঝা যায়নি। শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান। এক মহিলার দেহ জলের উপরের স্তরের ঠিক নীচে ভাসছে এবং তার উপরেই শিশুটি রয়েছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। মহিলার আধডোবা দেহও পাড়ে আনা হয়। তবে সে দেহে তখন আর প্রাণ ছিল না।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম তানজিলা (২৬)। তিনি লালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কোনও এক পরিজনের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করে তিনি শিশুপুত্রকে নিয়ে নৌকায় চড়ে লালপুর ফিরছিলেন। মাঝ নদীতে নৌকার তলা ফেটে গিয়ে তাতে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। দেখতে দেখতে নৌকা পদ্মায় ডুবে যায়। নৌকার মাঝি সাঁতরে পাড়ে ফেরেন। কিন্তু তানজিলা তা পারেননি। তিনি ডুবে যান। ঘণ্টাখানেক পর ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পদ্মার মোহনায় তানজিলা ও তাঁর শিশুপুত্রকে খুঁজে পাওয়া যায়।

নিজে ডুবে গিয়েও তানজিলা কী ভাবে তাঁর শিশুপুত্রকে ভাসিয়ে রাখলেন, তা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ডুবন্ত অবস্থাতেও কিছু ক্ষণ হয়তো শিশুপুত্রকে ভাসিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু মৃত্যুর পরও কী ভাবে তানজিলা ছেলেকে ডুবতে দিলেন না, তার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি। জলে ডুবে মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে দেহ ভেসে ওঠে না। দেহ তলিয়ে যায়। অনেক পরে দেহ ফুলে উঠলে তা উপরের দিকে ভেসে ওঠে। কিন্তু তানজিলার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাঁর মৃতদেহ ভাসমান ছিল এবং তার উপরেই শিশুটি খেলছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এ ঘটনা অনেকের কাছেই দুর্বোধ্য ঠেকেছে।

স্থানীয় ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক কবিরাজ জানিয়েছেন, শিশুটি সুস্থ রয়েছে। তানজিলার দেহ আবেদের ঘাট এলাকায় রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ভেড়ামারা শাখার ইন্সেপেক্টর মোজাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দৌলতপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ হয়েছেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares