Main Menu

জানাজায় লাখো মানুষ: কী করেছেন আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানার ওসি

[Web-Dorado_Zoom]

দেশজুড়ে এখন আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজার নামাজ। লকডাউন ভেঙে শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলায় ওই আলেমের জানাজার নামাজ পরিণত হয় জনসমুদ্রে!

জনসমাগম ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ওসিকে শনিবার রাতে এবং বাকি দুইজনকে রোববার সকালে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করার আদেশ দেওয়া হয়।

জানাজায় অংশ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকেও মানুষ এসেছিলেন। মূলত জেলার আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়েই সরাইলের বেড়তলায় জানাজার নামজস্থলে আসেন তারা। জানাজায় অংশ নিতে ওইদিন ভোর থেকেই তারা এসে জড়ো হতে থাকেন। অনেকে পায়ে হেঁটেও এসেছেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে। তাদের নিরাপত্তা চৌকি পেরিয়ে কীভাবে এত মানুষ এল? তাদের প্রবেশ ঠেকাতে কী করেছেন ওই দুই থানার ওসি? অনেকেই মনে করছেন সরাইল থানার ওসির মতো আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানার ওসিরাও জনসমাগম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

যদিও আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের থাকা আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা নিরাপত্তা চৌকিতে জানাজায় আগতদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতবর্গ এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি দিয়ে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

জানাজায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাইরে থেকে যেসব মানুষ এসেছিলেন, তাদের সিংহভাগই নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলার। তাদের কেউ এসেছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে; কেউ-বা মাইক্রোবাস ও ট্রাকে করে। জানাজা শেষে এসব যানবাহনেই তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওইদিন রাতেই জানাজার বিষয়ে মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি ফেসবুকেও প্রচার করা হয়। এরপরও পুলিশ কেন জনসমুদ্র ঠেকাতে পারেনি কিংবা ঠেকানোর ব্যবস্থা নেয়নি- সেটি নিয়েই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাতেই হুজুরদের কথা বলার পর তারা আশ্বস্ত করেছিলেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে জানাজার নামাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। মাদরাসা মাঠে জায়গা না পেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার অংশে জানাজা পড়েন মানুষ। এতে ব্যাপক পরিসরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ৭-৮টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস টোলপ্লাজায় আসার পর পুলিশ বাধা দেয়। আগতরা তখন ক্ষেপে যায়। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতবর্গ ও চান্দুরা বাস স্ট্যান্ডে আমাদের দুটি চেকপোস্ট ছিল। সাতবর্গ চেকপোস্টে থাকা অফিসার আমাকে জানিয়েছেন, দুই-তিন গাড়ি লোক এসেছেন, তারা জানাজায় যাবেন। আমি কতজন লোক জানতে চাওয়ার পর ২০-২৫ জন বলে জানানো হয়। তখন আমি বলেছি, কোনো অবস্থাতেই এদিক দিয়ে ঢুকতে পারবে না এবং গাড়িগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আমার জানামতে, আমার চেকপোস্ট দিয়ে কেউ আসেনি।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় তারা এটিকে হালকাভাবে দেখেছেন। আরেকটু কঠোর হলে ভালো হতো। তবে যেভাবে লোকজন এসেছেন- কয়জনকে বাধা দেবেন? আমাদের বিবেক জাগ্রত না হলে কিছু করা যাবে না। প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন শনিবার জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে তারা ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। তারা পুলিশকে আশ্বস্ত করেছিলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সামজিক দূরত্বের বিষয়টি বজায় রাখবেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন গিয়েছে। অনেকে ধর্মীয় বিষয়ের কথা বলেছে- সেক্ষেত্রে কাউকে তো জোর করে পুলিশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে পারে না। পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠি চার্জ করে কিংবা জোরপূর্বক কিছু করার সুযোগ ছিল না।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares