Main Menu

সিলেট-নাসিরনগর বাইপাস সড়ক

কাজ শুরুর আগেই স্থগিত হয়ে গেল প্রকল্প

[Web-Dorado_Zoom]

শুরু হওয়ার প্রাক্কালেই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের কার্যাদেশ স্থগিত হয়ে গেল। ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের দূরত্ব কমাতে নেওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নাসিরনগর-সড়াইল হবিগঞ্জ সড়ক বাইপাস প্রকল্প। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটির উন্নয়নে সব প্রক্রিয়া শেষে শিগ্গিরই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদনের অজুহাতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। এ খবর শুনে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদ জানাতে রোববার হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী।

কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। বিদ্ধমান অবস্থায় এখন আর কিছুই করার নেই। তবে গুরুত্ব বিবেচনা করে ভবিষ্যতে প্রকল্পটির কার্যক্রম চালু করা যায় কি না ভেবে দেখা হবে।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, অবিলম্বে কাজ শুরু না হলে তারা সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন। এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, বারবার হবিগঞ্জবাসীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। কদিন পরপরই একেকটি প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে। উন্নয়ন নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে।

তিনি বলেন, সড়কটির উন্নয়ন হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিলেট বিভাগের দূরত্ব কমবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার। যাতায়াত খরচও কমবে। এ সড়কের পাশে বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় মুরুব্বি আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার আব্দাল ও অ্যাডভোকেট আয়াতুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব চলমান সড়কটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেন। এরপরই আঞ্চলিক এই সড়কের সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’

প্রসঙ্গত, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন করে ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের দূরত্ব কমাতে ২০২৩ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৬৬১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বর্তমানে অর্ধলক্ষাধিক যানবাহন ও কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হবিগঞ্জের গ্যাসভিত্তিক শিল্প ছাড়াও হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আর্থসামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

প্রকল্পে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার অংশের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, প্রশস্তকরণ, সিসি ব্লকসহ সুরক্ষামূলক কাঠামো নির্মাণ প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ২১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, রাস্তা উঁচুকরণ ও প্রশস্তকরণে ব্যয় ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং সিসি ব্লক, জিও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন কাজ বাবদ ব্যয় ধরা হয় আরও ১৯০ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ব্যতীত ভৌত অবকাঠামো রক্ষাসহ কাজের মোট ব্যয় হবে ৪৬২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফলে নির্মাণ সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী বিবেচনায় সড়কটি উন্নয়নে প্রকল্পটি ভাগ করে দরপত্রও আহ্বান করা হয়। কিন্তু এই কাজ শুরু হওয়ার আগেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক কারণে ওয়ার্ক অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। সূত্র: যুগান্তর






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

This site is protected by wp-copyrightpro.com

Shares